হামাসের অস্ত্র ভান্ডার কতোটা সমৃদ্ধ?

গাজা উপত্যকার শেষ আশ্রয়স্থল রাফাহ শহরে অভিযান শুরু করার পর থেকে ইসরাইলের হাইটেক বাহিনী আইডিএফের সেনারা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, কতো ধানে কতো চাল। ‘ফিলাডেলফি করিডোর’ নামে পরিচিত গাজা ও মিশর সীমান্তের মধ্যকার কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ইসরাইলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। হামাসের একটি অস্ত্রভান্ডার দেখে চোখ কপালে উঠেছে।

ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, সেখানে তারা এমন বিশটির মতো টানেল খুঁজে পেয়েছে যা হামাস অস্ত্রের চালান গ্রহণ করার গোপন আস্তানা হিসাবে ব্যবহার করতো। যদিও হামাসের এক সূত্র মিশরীয় টেলিভিশনের কাছে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইসরাইল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে নিজেদের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করছে।  

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু জেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করে, হামাসের হাতে যে অস্ত্রভান্ডার রয়েছে, তা দিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি আরও বহু দিন যুদ্ধ করতে পারবে। কারণ, কয়েক দশক ধরে অস্ত্রের বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে হামাস। ‘ফিলাডেলফি করিডোর’ বন্ধ হলেও, অন্য স্থানে মজুত করা অস্ত্র ব্যবহার করবে হামাস। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্রের তালিকা করার সাধ্য আইডিএফ রাখে না। কারণ, হামাসের টানেল এবং অস্ত্রের গুদাম এতো বিস্তৃত যে তা খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, গাজার বেশিরভাগ ভবনেই হামাসের অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। তবে হামাসের দাবি, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বাসা বাড়িতে বোমা ফেলার জন্য এ ধরনের ভিত্তিহীন খবর প্রচার করে থাকে মোসাদ ও শিন বেট। 

জেরুজালেমের পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি ইসরাইলের সেনাবাহিনী হামাসের সবগুলো সামরিক শাখাকে ছত্রভঙ্গও করে দেয় এবং হামাস আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়, তারপরও এই সংগঠনটি আরও মারাত্মক হয়ে উঠার ক্ষমতা রাখে। গাজার হামাস পরিচালিতি প্রতিরোধ হামলাগুলো সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। আইডিএফের বিরুদ্ধে একের পর এক সফলতা দাবি করে যাচ্ছে হামাস যোদ্ধারা। 

হামাসের অস্ত্রভান্ডারে কি কি ধরনের অস্ত্র রয়েছে, এমন প্রশ্নেরও কোন উত্তর খুঁজে পায়নি ইসরাইল। কিছু দিন আগে জাবালিয়াকে একটি  কোয়াডকপ্টার ড্রোন নামাতে সক্ষম হয়েছে হামাস। এতে স্পষ্ট, হামাসের কাছে এমন ধরনের রাইফেল আছে যা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করা যায়। আল-কাসাম ব্রিগ্রেড হরহামেশাই ইয়াসিন রকেট ব্যবহার করছেভ। যা দিয়ে মারকাভার মতো আধুনিক ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিচ্ছে হামাস। 

ইসরাইলের সেনাবাহিনী নিজেরাই স্বীকার করেছে, ইয়াসিন রকেট উচ্চ ক্ষমতার ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং এসব রকেট ছুঁড়তে আরপিজি লঞ্চার ব্যবহার করা হচ্ছে। আল-মায়াদিনের রিপোর্ট অনুসারে, ট্যাঙ্ক ও বুলডোজার উড়িয়ে দিতেই এসব রকেট ব্যবহার করেছে। স্নাইপার রাইফেল এবং মর্টার ব্যবহার করার পাশাপাশি দালান ও টানেলের মধ্যে বুবি-ট্র্যাপি বিস্ফোরক স্থাপন করে হামাস।

হামাসের মুখপাত্র আবু উবাইদা কয়েকদিন ধরেই বলছেন, তাারা ট্যাঙ্ক বিধ্বসী ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ৬০ মিলিমিটার মর্টার শেল এবং ১০৭ মিলিমিটার মিমি রকেট ব্যবহার করছে। রাফাহ, জাবালিয়া এবং বেইত লাহিয়ার প্রতিরোধ যুদ্ধে এসব ব্যবহার করা হয়েছে। আর, আল-আকসা শহীদ ব্রিগেড তাদের অপারেশনে ৬০ মিলিমিটার মিমি মর্টার ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে। 

নেটজারিম করিডোরে আইডিএফকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে দাবি করেছে হামাসর এই শাখাটি। একটি তৃতীয় দল- শহীদ ওমর আল-কাসাম ইউনিটের ১০৭ মিলিমিটার রকেটের পাশাপাশি ছোট অস্ত্রের ভান্ডার রয়েচে। অ্যাক্সেস রয়েছে। তবে ইসরাইলি গোয়েন্দারা মনে করেন, এসব চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর ধরনের অস্ত্র রয়েছে ছোট এই গ্রুপটির কাছে। এই ইউনিট গেরিলা যুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষ বলেও ভয় আছে তেল আবিবের। 

মধ্যপ্রাচ্যের সামিরক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামাস তার সামর্থ্যের পুরোটা কখনো প্রদর্শন করে না। শক্রকে ঘায়েল করতে উপযুক্ত সময়ের জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় থাকে। সেই সঙ্গে বিশেষ বিশেষ অভিযানের সময় তারা তাদের সেরা অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে। হামাসের কাছে অস্ত্রশস্ত্রের অভাব নেই। এখনও গাজার বহু এলাকা রয়েছে যা ইসরাইলি সেনারা ঢুকতেও পারেনি। সেসব স্থানেও অস্ত্রের বড় ভান্ডার রয়েছে। 

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ে ধরে অস্ত্র তৈরিতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছে হামাস। বেশ কিছু রকম অস্ত্র এখন হামাস নিজেরাই বানাতে পারে। ফলে সংগঠনটির অস্ত্রের অভাব হবে না। সেই সঙ্গে হামাসের কাছে কি পরিমাণ রকেট ও মর্টার রয়েছে, সেটির চিত্রও স্পষ্ট নয়। শুধু মাত্র ধারণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ইসরাইল, কিন্তু দীর্ঘ সময় যুদ্ধ হলে আখেরে বিজয়ী হবে হামাসই।