ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ তথা লোকসভার নির্বাচন শেষ হয়ে এরিমধ্যে নতুন সরকার গঠন করেছেন টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়া নরেন্দ্র মোদী। আসন কমলেও বিজেপির নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়েছে। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে রেকর্ডও গড়েন মোদী।
পার্লামেন্ট সদস্য তথা এমপি হতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায় ভারতে। কেন, এমপি হওয়ার সুবিধা কী কী? বেতন ছাড়া আর কী কী পাওয়া যায়? বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের মতো তারা কী কী সরকারি সুবিধা পান তা নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতাই বা কত?
তথ্য বলছে, একজন এমপি প্রতি মাসে মূল বেতন হিসেবে এক লাখ রুপি পান। ২০১৮ সালে তা বাড়ানো হয়েছে। তাও আবার মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে। এছাড়া যে এলাকার তিনি জনপ্রতিনিধি, সেখানকার কাজকর্ম পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে সত্তর হাজার রুপি বরাদ্দ থাকে।
এই টাকায় সেখানে নতুন দফতর খোলা, কিছু স্থানীয় কর্মী নিয়োগের কাজ করা যেতে পারে। যাতে সেই অফিসের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানা যায়। এছাড়াও এমপিকে নিজের অফিস চালানোর জন্য ৬০ হাজার রুপি দেয়া হয়।
বেতনের পাশাপাশি ভাতাও পান ভারতের লোকসভার নির্বাচিত সদস্যরা। ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে যদি অধিবেশন চলে বা সংসদীয় কমিটির কোনো স্থায়ী বৈঠকের ডাক দেয়া হয়, তাহলে সেখানে হাজির থাকার জন্য দুই হাজার রুপি করে ভাতা দেয়া হয়। পার্লামেন্টের ভেতরে এমপিদের খাবারও দেয়া হয়।
আর সুযোগ-সুবিধা? সব এমপি ভারতের যে কোনো প্রান্তে যাওয়ার জন্য বছরে ৩৪টি বিমান সফর বিনামূল্যে পান। সারাবছর বিনামূল্যে ট্রেনের ফার্স্টক্লাসে ভ্রমণ করতে পারেন। তা সে পেশাগত সফর হোক বা ব্যক্তিগত সফর। শুধু কী তাই? কোনো এমপি নিজের কেন্দ্রে গাড়ি নিয়ে ঘুরলে তার জ্বালানির টাকাও পেয়ে যান।
রাজধানীতে থাকার আয়োজনও রাজকীয়। দিল্লিতে থাকার জন্য প্রত্যেক এমপির জন্য একটি বাংলো বরাদ্দ থাকে। তাও আবার অভিজাত এলাকায়। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এমপিরা বাড়তি সুবিধা পান বলেই খবর। যারা বাংলো থাকতে চান না তারা আবার বাড়িভাড়া হিসেবে দুই লাখ রুপি পান।
এমপি এবং তার নিকট আত্মীয়রা সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারেন। কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও এই সুবিধা থাকে। এছাড়াও এমপিরা ফোনের খরচ বাবদ বার্ষিক দেড় লাখ টাকা ও বছরে অন্তত ৫০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পরিষেবা বিনামূল্যে পান।
ফ্রি তালিকায় চার হাজার কিলোলিটার পানিও রয়েছে। চিন্তা করে দেখুন ভারতের মত দেশে যেখানে অনেক জায়গায় পানির তীব্র সঙ্কট সেখানে এমপিদের বিনামূল্যে দেয়া হয় হাজার হাজার লিটার পানিও।
ভারতীয় সাংসদরা ফোন ও ইন্টারনেটের বিলও পেয়ে থাকেন। জানলে অবাক হবেন, এমপিদের বার্ষিক দেড় লাখ রুপী মূল্য পর্যন্ত বিনামূল্যে টেলিফোন খরচ বরাদ্দ দেয়া হয়। তারা তাদের বাসভবনসহ অফিসে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে থাকেন।
কেবল যে বর্তমান এমপিরাই সব সুযোগ সুবিধা পান, তা নয়। সাবেক এমপিদের জন্যও অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সাবেক এমপিদের প্রতি মাসের পেনশন ২৫ হাজার রুপি। কোনো কারণে তার কাজের মেয়াদ বছর খানেক বাড়লে এই পেনশনের পরিমাণ আবার দুই হাজার রুপি করে বেড়ে যায়।