অদ্ভুত এক খেলায় মেতেছে দুই কোরিয়া। পশ্চিমা দুনিয়া এই খেলাকে বলছেন ‘ট্রাস ওয়ার’, অর্থাৎ আবর্জনা যুদ্ধ। আক্ষরিক অর্থেই কিন্তু তাই। শত শত বেলুনে আবর্জনার ব্যাগ ঝুলিয়ে সেগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়াতে পাঠিয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যা নিয়ে এখনও জোর চর্চা চলছে সামাজিক মাধ্যমে।
রকেট কিমের দেশ উত্তর কোরিয়া। দেশটির হাতে রয়েছে পারমাণবিক বোমা। আরও আছে হরেক রকমের মিসাইল। কিছু দিন পরপরই এসব মিসাইল ছুঁড়ে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা জানান দেয় দেশটি। আর এসব নিয়ে রীতিমতো ঘুম হারাম দক্ষিণ কোরিয়ার। সারাক্ষণ নজরে রাখতে হয় কিমের কর্মকাণ্ডের প্রতি।
উত্তরের নেতা প্রায়ই হুমকি দেন দক্ষিণকে, এখনই শুরু হবে যুদ্ধ। এই নিয়ে টেনশনের শেষ নেই। কারণ সিউল ভালো করেই জানে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের পক্ষে সবই সম্ভব। কিন্তু, সেই কিম অস্ত্র ছেড়ে এমন এক অদ্ভুত যুদ্ধ শুরু করেছেন তাতে বিশ্বের চক্ষু চড়াক গাছ।
কিছুদিন আগেই উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় বেলুন থেকে আবর্জনা ফেলছে। শুধু একদিন নয়, জুনের শুরুতে কয়েকশ’ আবর্জনা ভর্তি বেলুন পাঠানোর কয়েক দিন পর আবারও একই কাণ্ড করে বসে পিয়ংইয়ং। আর এসবের পাল্টা হিসাবে সিউলও অদ্ভুত এক ব্যবস্থা নিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার যখন তখন নোংরা কাজ করা হতে পারে বলে আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছিল সিউলের সেনাবাহিনী। আবর্জনা ভর্তি বেলুন পাঠানোর প্রতিবাদে উত্তর কোরিয়ার নেতার কিম জং উনের বিরুদ্ধে লিফলেটসহ বেলুন ওড়ানো হয়। কিন্তু এই ঘটনার কয়েক দিন পরও আবারও বেলুর পাঠায় পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়া তার নাগরিকদের আরও সতর্ক করে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পাঠানো আবর্জনা ভর্তি বেলুন দেখা মাত্র যেন পুলিশকে খবর দেয়া হয়। সেই কখন কীভাবে দেখেছে সেই বর্ণনাও চাওয়া হয়েছে এবং বেলুনগুলোকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়।
উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ডে বিচলিত হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া নতুনভাবে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলেছে। কি সেই প্রতিশোধ? উত্তর কোরিয়া সীমান্তে লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে অপপ্রচার চালানোর ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুধু ঘোষণা নয়, করেও দেখিয়েছে সিউল।
দুই দেশের এমন অদ্ভুত পাল্টাপাল্টি ‘আক্রমণ’ সামরিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। বলা হচ্ছে, কোরিয়া উপদ্বীপে বাড়তে থাকা উত্তেজনায় এবার অস্ত্রের বদলে অদ্ভুতভাবে যুদ্ধ হচ্ছে। তবে এই আবর্জনা যুদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়াতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। সিউলের পদক্ষেপে চটে যায় পিয়ংইয়ং। কিমের বোনকে নিয়ে সীমান্তে লাউড স্পিকারে ‘গুজব’ ছড়ানো বন্ধ করার জন্য সতর্ক করেছিল পিয়ংইয়ং। সেইসঙ্গে তিনশ’টির বেশি আবর্জনা ভর্তি বেলুন পাঠিয়ে দেয় সিউল সীমান্তে। হুঁশিয়ারি দেয়, গুজব বন্ধ না হলে বেলুনও বন্ধ হবে না।
উত্তর কোরিয়ার হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়ে সীমান্তে লাউড স্পিকারে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে দুই দেশের মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেক বিশ্লেষকের।