চলতি বছরের হজে বিপদসংকেত, মুসল্লিদের সতর্কবার্তা

শুরু হয়েছে চলতি বছরের হজ মৌসুম। পুরো বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এবার হজ পালন করবেন। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। এদিন মিনায় যাওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে হজ কার্যক্রম। এরপর আরাফার ময়দান, মুজদালিফা, মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন, সাফা-মারওয়া সায়ী, তাওয়াফ, দমে শোকর আদায়ের মাধ্যমে শেষ হবে ৬ দিনের হজ কার্যক্রম।

কিন্তু হজ পালন করতে গিয়ে নতুন আতঙ্কে মুসল্লিরা। বিশ্বজুড়ে যে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে মরুর দেশ সৌদি আরবে সেটি আরও তীব্র ও প্রকট। হজের সময় মক্কায় তাপমাত্রা হতে পারে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তীব্র তাপপ্রবাহই এখন মুসল্লিদের জন্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- বিপদসংকেত।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মুসল্লিরা এবার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্কতা জারি করেছে সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহে জারিকরা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এবছর হজযাত্রীদের জন্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাপমাত্রা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহিল বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরবে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস, হজের সময় মক্কার তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। তাপমাত্রা গরম থেকে অতি গরম থাকতে পারে। মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোর তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি হজের সময় তাপপ্রবাহ চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশের আবহাওয়া কেন্দ্র।

hazz1

এ অবস্থায় হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। যেমন সরাসরি সূর্যের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অজ্ঞান হওয়া কিংবা গরমের ক্লান্তি দূর করতে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেয়া। এবার মুসল্লিরা হিটস্ট্রোকেও আক্রান্ত হতে পারেন বলেও সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঠাণ্ডা স্থানে এনে পর্যাপ্ত তরল খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে সরাসরি রোদে না যেতে ও ভিড় এড়িয়ে চলতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে এবার হজ পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক কারণে এখন পর্যন্ত ১৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। মক্কায় মারা গেছেন ১১ জন ও মদিনায় ৪ জন। দেশটির আইনে আছে, কোনো ব্যক্তি হজ পালন করতে গিয়ে মারা গেলে সেখানেই দাফন করা হয়। মক্কায় হজযাত্রী মারা গেলে মসজিদুল হারাম আর মদিনায় মারা গেলে মসজিদে নববিতে মুসল্লিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।