ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা ও আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর ৭০ হাজারের বেশি সেনা নানা কারণে যুদ্ধের জন্য অক্ষম হয়ে পড়েছে। গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি গুরুতর আহত এবং হাজারের বেশি দখলদার সেনা নিহত হয়েছে।
ইসরাইলের যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে আহত হওয়া সেনাদের শতকরা ৩৫ শতাংশ মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছে। শতকরা ২১ শতাংশ মনস্তাত্ত্বিকভাবে আহত হয়েছে।
পুনর্বাসন বিভাগ বলছে, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আরও ২০ হাজার সেনা আহত হতে পারে।
একটি বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় শতকরা ৪০ শতাংশ সেনা যারা বছরের শেষের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হবে তারা বিভিন্ন ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে পারে যেমন- উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আঘাত পরবর্তী চাপ, পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার সংকট এবং যোগাযোগের অসুবিধা।
ইসরাইলি মেডিকেল এসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রতি মাসে নতুন করে এক হাজারের বেশি পুরুষ ও নারী (প্রবীণ) সেনা চিকিৎসা নিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ২০ ভাগ মানসিক প্রতিক্রিয়া এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগছে।
চলতি মাসের ৭ তারিখে ইলিরান মিজরাহি নামে আরও এক দখলদার সেনা আত্মহত্যা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিরান পিটিএসডিতে ভুগছিলেন এবং তিনি আহতও ছিলেন। এরমধ্যেই তাকে আবারও যুদ্ধে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
তবে ইলিরান একা নয়, এই তালিকা দিনিকে দিন বড় হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও সেনা সদস্য একই পথ বেছে নিতে পারে।
এদিকে মার্চ মাসে গবেষকদের একটি দল এক সমীক্ষার বরাতে জানায়, গাজা গণহত্যার পরে ৫০ লাখের বেশি ইসরাইলি পিটিএসডির ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি গণহত্যা এবং হামাসের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছে ইসরাইলের অধিকাংশ নাগরিক। ভবিষ্যতে কী হবে? এ নিয়েও দুশ্চিন্তা তাদের।
এর আগে ইসরাইলের আচভা একাডেমিক কলেজ, হাইফা ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইসরাইলে প্রতি তিনজনে একজনের পিটিএসডি উপসর্গ রয়েছে।
পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)
পিটিএসডি একটি মানসিক রোগ। আতঙ্কিত হওয়ার মতো (ট্রমাটিক) কোনো ঘটনার সম্মুখীন হলে যেকেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং পিটিএসডি ভুক্তভোগীতে পরিণত হতে পারে।
পিটিএসডিতে আক্রান্ত হলে নেতিবাচক আবেগ ও ভাবনার সৃষ্টি হয় এবং নেতিবাচক স্মৃতি মনে পড়তে থাকে। তবে আক্রান্তদের অধিকাংশই ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
পিটিএসডি আক্রান্তদের চারপাশে যা যা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা অতিমাত্রায় দুশ্চিন্তা করে এবং আরাম (রিল্যাক্স) করতে পারে না। কোনো বিষয়ে তারা সহজেই উত্তেজিত হয়ে বাড়াবাড়ি রকমের প্রতিক্রিয়া দেখায়। পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত, খিটখিটে মেজাজ ও বেপরোয়া মনোভাব দেখা দিতে পারে।