রাফাহ শহরে হামলা আরও বিস্তৃত করেছে ইসরাইল

একের পর এক হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে গাজার দক্ষিঞ্চলীয় রাফাহ শহর। গাজার শেষ আশ্রয় এই শহরটির আরও ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে ইসরাইলি ট্যাংক। রাফাহ শহর জুড়ে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরাইল। গাজায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

হামলা জোরদার হওয়ায় ত্রাণ প্রবেশ করতে পারছে না সীমান্ত দিয়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গাজার উত্তরাঞ্চলের মানুষ। একটু খানি নিরাপদ আশ্রয় স্থলের সন্ধানে গাজার একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু কোথাও কোন নিরাপদ আশ্রয় নেই আর এখন।

রাফাহ শহরে ইসরাইলি স্থল হামলার কারণে তাঁবুর শহর থেকে হাজার হাজার লোক পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ইতোমধ্যে সেখান থেকে দেড় লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন। রাফাহকে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের শেষ আশ্রয়স্থল বলে গণ্য করা হতো।

israil1

একের পর এক হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে গাজার দক্ষিঞ্চলীয় রাফাহ শহর। শহরটির আরও ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে ইসরাইলি ট্যাংক। ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে সেখানে হামলা চালাচ্ছে তারা।

গাজায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজা শহরের জেইতুন এলাকার একটি বাড়িতেই ইসরাইলি বিমান হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরাইল রাফাহ শহরের পূর্বের তিন ভাগ এলাকা খালি করে ফেলেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর  মুখপাত্র ডেনিয়েল হাগারি দাবি করেছেন, তাদের টার্গেটেড হামলায় সেখানে বহু ফিলিস্তিনি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আর, এমন হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাফাহ ক্রসিং দখলে নিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল।

israil2

আল জাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরের পশ্চিমে সৌদি পাড়ার আওতার মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় ওই এলাকার আবাসিক বাড়ি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত খান ইউনিস শহরেরও হামলা হয়েছে।

সেখানের পূর্বপ্রান্তে ইসরাইলি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে ইসরাইল কামানের গোলাবর্ষণ করেছে। ভূখণ্ডটির উত্তরে রাতভর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গাজার পূর্বে সুজাইয়ে একটি বাড়িতে বোমা ফেলেছে ইসরাইল।

israil3

এদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে এখনো আটকা পড়ে আছে ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা হাঁপিয়ে উঠেছে। একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গাজার একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত। তবুও মিলছে না নিরাপত্তা। গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মতো চরম দুর্দশার মধ্যে টিকে আছে।

প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ বলছে, ইসরাইলি হামলায় পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে হারিয়েছে গাজার ৬০ শতাংশ মানুষ। আর ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বাস্থ্যকর্মীদের গুরুতর আহত লোকজনের কাছে যেতে দিচ্ছে না। রামাল্লার পার্শ্ববর্তী ছোট শহর সিলওয়াদেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।