মুইজ্জুকে নিয়ে কালো জাদু, দুই মন্ত্রী গ্রেপ্তার!

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগে মালদ্বীপে দুই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামনাজ সেলিম আরেকজন তার সাবেক স্বামী আদম রমিজ, যিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে মন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ওই দুইজনের সাথে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মালদ্বীপের পুলিশ দেশটির এক নারী প্রতিমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে। প্রেসিডেন্টকে কালো জাদু করার অভিযোগে ওই নারী প্রতিমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে রমিজ পুরুষ সিটি কাউন্সিলে থাকাকালীনমুইজ্জুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যিনি সেই সময়ে মেয়রও ছিলেন।

মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর ওপর কালো জাদুর করার অভিযোগে প্রতিমন্ত্রী শামনাজেকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। তবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি মালদ্বীপের পুলিশ নিশ্চিত বা অস্বীকার কিছুই করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত রোববার মালদ্বীপের পরিবেশ, জলাবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাতিমাত শামনাজকে দু’জনের সঙ্গে আটক করা হয়েছে। এরপর দেশটির কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের জন্য তাকে এক সপ্তাহের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে তাকে আটকের কারণ বা এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা দেওয়া হয়নি।

অবশ্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদ্বীপে বিদ্যমান দণ্ডবিধির অধীনে জাদুবিদ্যা করা কোনও ফৌজদারি অপরাধ নয়, তবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে ইসলামিক আইনের অধীনে ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জজুড়ে বসবাসরত লোকেরা ব্যাপকভাবে ঐতিহ্যবাহী নানা রীতি-নীতি পালন করে থাকে। তারা বিশ্বাস করে, (কালো জাদুর মাধ্যমে) তারা প্রতিপক্ষকে অভিশাপ দিতে পারে।

কালো জাদুর রীতি-নীতি পরিচালনা করার অভিযোগ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির মানাধুতে তিন প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে ৬২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছিলেন। দীর্ঘ পুলিশি তদন্তের পরে এ বিষয়ে দেশটির মিহারু নিউজ সাইট গত সপ্তাহে রিপোর্ট করে।

নিউজ সাইটটি পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলেছে, হত্যার শিকার ওই নারী জাদুবিদ্যা করেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

এর আগে ২০১২ সালে পুলিশ অফিসারদের ওপর ‘অভিশপ্ত মোরগ’ নিক্ষেপ করার অভিযোগে পুলিশ একটি বিরোধী রাজনৈতিক সমাবেশের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল।