রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ইউক্রেন। এ যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছে দেশটি। এ চুক্তির শর্ত অনুসারে ইউক্রেনকে সামরিক, আর্থিক, কূটনৈতিক এবং মানবিক সহায়তা দেবে ইইউ।
ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইইউ ছাড়াও লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার সঙ্গেও আলাদা আলাদাভাবে একই ধরনের চুক্তি সই করেছে কিয়েভ।
চুক্তি সইয়ের পর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য ইউরোপের বাকি দেশগুলোকেও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন।
এক এক্স পোস্টে মিশেল বলেন, এই চুক্তি ইউক্রেনকে আত্মরক্ষা, প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতের আগ্রাসন রোধ করতে সাহায্য করবে।
উরসুলা বলেন, আমরা ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছি। আমরা অস্ত্র, সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইউক্রেনকে চলমান যুদ্ধে আত্মরক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবো বলে অঙ্গীকার করছি।
এর আগে ২০২৩ সাল থেকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ন্যাটোভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছিল ইউক্রেন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা চুক্তি সই করলেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এ চুক্তি খুব একটা কার্যকারী হবে না। কারণ এসব চুক্তির কোনোটিতেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে সরাসরি এসব দেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মস্কো বলছে, ইইউ ও ন্যাটো সামরিক জোট কোনোভাবেই ইউক্রেনের পরাজয় ঠেকাতে পারবে না। তবে এসব জোট যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কঠিন অবস্থানে যায় তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া রাশিয়ার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
স্বয়ং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বিষয়ে ইইউ ও ন্যাটোকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। ফলে এসব নিরাপত্তা চুক্তি রাশিয়াকে ঠেকাতে খুব একটা কাজে আসবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।