ভারতের বিহার রাজ্য জুড়ে ১৫ দিনের মধ্যে ১০টি সেতু ধসে পড়ার ঘটনায় রাজ্যটির ১৬ জন প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিহারের পানিসম্পদ বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কাজে গাফিলতির জন্য বিভাগের ১৬ প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।
বিহারের উন্নয়ন সচিব চৈতন্য প্রসাদ সাংবাদিকদের বলেন, রাজ্য সরকার বিষয়টিকে অত্যান্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। প্রকৌলশীদের বরকাস্ত করার পাশাপাশি সেতুগুলো নির্মাণ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য দায়ী ঠিকাদারদের খুঁজে বের করে জবাবদিহি করা হবে।
বৃহস্পতিবার বিহারের সারান জেলা থেকে রাজ্যের দশম সেতু ধ্বসে পড়ার খবর আসে। এই জেলায় এটি ছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৃতীয় সেতু ধ্বসের ঘটনা। এছাড়াও গেলো ১৫ দিনে সিওয়ান, সরণ, মধুবনি, আরারিয়া, পূর্ব চম্পারণ এবং কিষাণগঞ্জ জেলায় সেতু ধ্বসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
রিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বুধবার একটি পর্যালোচনা বৈঠকের পরে, সব পুরানো সেতুতে একটি সমীক্ষা চালানো এবং যেগুলোতে অবিলম্বে মেরামতের প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব অবশ্য অভিযোগ করেছেন ১৮ জুন থেকে বিহারে দশটি নয় ১২টি সেতু ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ১৮ জুন থেকে বিহারে ১২টি সেতু ভেঙে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ উভয়েই নীরব। রাজ্য সরকারের প্রতিটি বিভাগে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
বিহারের গ্রামীণ পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী অশোক চৌধুরী পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, তেজস্বী যাদব নিজে এ দপ্তরের দায়িত্বে ১৫ মাস ছিলেন, সেটিও মনে রাখতে হবে। তখন তিনি কী করছিলেন? আগের রাজ্য সরকারে এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করা উচিত। অন্যকে দোষারোপ করা আগে নিজের কথাও বলতে হবে।