বিপজ্জনক উৎসব ষাঁড়ের সাথে দৌড়ানো!

ধরুন, আপনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, আর আপনাকে তাড়া করছে হিংস্র, উন্মত্ত এক পাল ষাঁড়। সরু রাস্তা আর অলি গলি দিয়ে আপনি প্রাণপনে ছুটছেন। যে কোনো মূল্যে পালাচ্ছেন বাঁচার জন্যে। কিন্তু পুরো রাস্তা জুড়ে মানুষের মিছিল; অসম্ভব সে ভিড় ঠেলে পালাতেও পারছেন না! হাসফাঁস করছেন উন্মত ষাঁড় থেকে বাঁচতে।

এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই যে কোন মানুষের জন্যই দুঃস্বপ্নের হবার কথা। কিন্তু হিংস্র, উন্মত্ত, ভয়ঙ্কর ষাঁড়ের পালের এমন আক্রমণকে ভয় তো নয়-ই, বরং এক বৃহৎ উৎসবের অংশ। দুঃস্বপ্নের মতো ভয়ঙ্কর এই উৎসবের নাম ‘সান ফার্মিন’। বিপজ্জনক হলেও স্পেনের মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এই উৎসব।


 
শতাব্দী প্রাচীন এই খেলা যথেষ্ট বিপদজনক হলেও, ষাঁড়ের দৌড় স্প্যনিশদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। অনেকগুলো আয়োজনের সমন্বিত এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিংস্র ষাঁড়ের আক্রমণাত্মক দৌড়। বিগত কয়েক শতক ধরে স্পেনের মানুষ উৎসব হিসেবে মেতে উঠছেন এমন ভয়ঙ্কর খেলায়।

জুলাই মাস ঘিরে ৯ দিনের বিশাল আয়োজন এ ‘সান ফার্মিন’ উৎসব। এ আয়োজনে থাকে মেলা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাসহ অসংখ্য মন ভালো করা আয়োজন। তবে জনপ্রিয় উৎসবটির আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে এ ষাঁড় দৌড়। ভয়ঙ্কর এক স্বপ্নময় বাস্তবের সাক্ষী হতে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয় স্পেনে। স্পেনের বেশিরভাগ নাগরিক ষাঁড় দৌড়ে অংশগ্রহণ সাহসিকতার পরিচয় হিসেবেই দেখেন।

ষাঁড় দৌড়ের জন্য সারাবছর ধরে ষাঁড়গুলোর যত্ন নেন স্পেনের নাগরিকরা। সাধারণত দৌড়ে ৬টির মত ষাঁড় অংশ নেয়। মোট আটটি দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি দৌড়ের স্থায়ীত্ব তিন থেকে পাঁচ মিনিট। তবে, এই তিন থেকে পাঁচ মিনিটেই ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যে ঘটেও এমন দুর্ঘটনা।

শতাব্দী কাল ধরে স্পেনের ‘সান ফার্মিন’ চললেও প্রথম দিকে উৎসবটি বিশ্বব্যাপী এতটা জনপ্রিয় ছিলো না। কিন্তু চিত্র বদলে যায় ১৯২৬ সালে বিখ্যাত সাহিত্যিক আর্নেস্ট হামিংওয়ের ‘দ্যা সান অলসো রাইজেস’ উপন্যাস প্রকাশের পর। হামিংওয়ের অনন্য বর্ণনায় নতুন প্রাণ পায় ‘সান ফারমিন’ উৎসব।