এবার গাজা সিটি খালি করতে ইসরাইলের নির্দেশ

গত দশ মাস ধরে গাজা উপত্যকার নিরীহ ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি লিফলেট নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে আছেন। কারণ, আকাশ থেকে নেমে আসা এসব লিফলেটের মানেই হলো, আবারও ছাড়তে হবে ঘর। আশ্রয় নিতে হবে নিরাপদ কোন শরণার্থী শিবিরে, যদিও ইসরাইলি গোলায় গাজায় নিরাপদ বলতে কিছু নেই।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আবারও লিফটেল ছেড়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী আইডিএম। এতে গাজা সিটির সব বাসিন্দাকে নিজেদের ঘর ছেড়ে মধ্য গাজায় চলে যেতে বলেছে। তাও আবার দুটো মাত্র রাস্তা ব্যবহার করে সেখানের আশ্রয় শিবিরে যেতে বলা হয়েছে। সময় দেয়া হয়েছে মাত্র দুই দিন।

টাইমস অফ ইসরাইলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফ জানিয়েছে, বুধবার সকালে লিফলেট ফেলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন গাজা সিটির বেসামরিক নাগরিকরা অন্যত্র চলে যায়। এক্ষেত্রে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শরণার্থী শিবিরকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

এর আগে শহরের একটি অংশ থেকে বাসিন্দাদের বের যেতে বলেছিলো ইসরাইলের বাহিনী। তবে, বুধবার আকাশ থেকে ফেলা লিফলেটে বলা হয়েছে, বাসিন্দারা ‘দ্রুত এবং পরিদর্শন ছাড়াই গাজা সিটি থেকে দেইর আল-বালাহ এবং আল-জাওইয়াতে আশ্রয়কেন্দ্রে’ দুটি নিরাপদ সড়ক বেছে নিতে সক্ষম হবে।

লিফলেট বলা হয়েছে, গাজা সিটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে। তাই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নির্দিষ্ট সড়ক ধরে দেইর আল-বালাহ এবং আল- জাওইয়াতের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে। জাতিসংঘ বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের নতুন করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়ায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

গত দুই সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনী গাজা শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করেছে। এসবের মধ্যে এমন এলাকাও রয়েছে যেখানে আগেও তারা অভিযান চালিয়েছে। এখন তারা মনে করেছে সেসব এলাকায় হামাসের যোদ্ধারা আবারও ফিরে এসেছে।

একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি নিয়ে কাতারে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর মুহূর্তে নতুন করে গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ দিয়ে লিফলেট ছাড়া হলো। আলোচনায় মিশর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা প্রধানরা অংশ নেবেন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে যে, তাদের সেনারা গাজা সিটিতে হামাসের একটি গোপন ঘাঁটির খোঁজ পেয়েছে। সেখানে তারা অভিযান চালাবে। জাতিসংঘের একটি শরণার্থী কেন্দ্রকে ব্যবহার করে হামাস যোদ্ধারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে বলে মনে করেছে আইডিএফ।

আইডিএফ আরও দাবি করেছে, তারা মঙ্গলবার গাজা শহরের পূর্ব শেজাইয়া জেলায় কয়েক ডজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং একটি ভূগর্ভস্থ টানেলের রুট ভেঙে দিয়েছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আতঙ্কিত জীবন কাটাচ্ছে।

ইসরাইলি বাহিনীর ফেলা নতুন লিফলেট তুলে নিয়ে আহমেদ আশরাফ এবং মোহাম্মদ আবু নাসিম নামে দুই যুবক বলেন, এই ৩০০ দিনের নিপীড়নের পর আমরা আর কোথায় যাব? ইসরাইলি বাহিনীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, তোমরা কি আমাদের দক্ষিণের দিকে যেতে নির্দেশ করছ?

এদিকে ফিলিস্তিন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সেক্রেটারি-জেনারেল মোস্তফা বারঘৌতি বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা শহরের পুরো জনসংখ্যাকে ‘জাতিগতভাবে নিধন’ করার চেষ্টা করছে। তারা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের শহর এবং তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।

বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০৮ জন। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর থেকে থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ২৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন ৮৮ হাজার ২৪১ জন।