লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দখলদারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা। ইসরাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট বা পিএমইউ।
পিএমইউ'র এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।
বিবৃতির বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ইসরাইলের হাইফা বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া, হাজেরা এলাকার অরোত রাবিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও ইরাকি যোদ্ধারা ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ড্রোন হামলায় ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি তেল আবিব কর্তৃপক্ষ।
ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা বলছে, গেলো ৯ মাসে তাদের লাগাতার হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরাইল। পিএমইউ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় হাইফা এবং ইলাত বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে।
সংগঠনগুলো বলছে, গাজায় গণহত্যা বন্ধ না হলে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চলতে থাকবে।
সম্প্রতি ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের যে হুমকি দিয়েছে, তার জবাবে ইরাকি যোদ্ধারা বলেছে, এ ধরনের আগ্রাসন চালালে তারা হিজবুল্লাহর পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।