ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে বিরতি আনতে আবারও আলোচনার টেবিলে দেয়া হয়েছে নতুন একটি প্রস্তাব। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে এরিমধ্যে কাতার রাজধানী দোহায় পৌছঁছে গেছেন হামাস ও ইসরাইলের প্রতিনিধিরা। এই আলোচনায় আরও অংশ নেবেন মিশর ও মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানরা। অতীতের মতো নতুন প্রস্তাব আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে।
প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার জন্য অনুমোদন দেন। মূলত সেই প্রস্তাবটি নিয়েই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তাব নিয়ে স্বয়ং ইসরাইলের কর্মকর্তারাই সন্দিহান। তবে অন্যান্য পক্ষের মতে, নেতানিয়াহুর নতুন প্রস্তাব নিয়ে তারা আশাবাদি এবং এই প্রস্তাবের বিষয়ে হামাসকে রাজি করাতে পারবেন তারা।
ইসরাইল এবং গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ডেনিয়েল লেভি নামে একজন সাবেক ইসরাইলি শান্তি আলোচনাকারী বলেন, বর্তমানে টেবিলে থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি যেভাবে গঠন করা হয়েছে তা যুদ্ধের অবসানের পথ প্রশস্ত করতে পারে, তবে সেই চুক্তিতে যেটি অনুপস্থিত; তা হলো ইসরাইলের নেতৃত্বের একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। তাই নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটিকে হাস্যকর হিসাবে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, গাজায় যে কোনো যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে ইসরাইলের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা অভিযান পুনরায় শুরু করার সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু হামাস চায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।
গত রোববার শেষ রাতে তিন ধাপের মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে নেতানিয়াহুর একটি বৈঠক করার কথা ছিলো। মে মাসে সেই পরিকল্পনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দিয়েছিলেন। এতে কাতার ও মিসর মধ্যস্থতা করছে; এর লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করা।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই পরিকল্পনার মূল অংশ মেনে নেয়ার পাঁচ দিন পর গোষ্ঠীটির দুই কর্মকর্তা জানান, সবশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরাইলের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি থেকেও সরে গেছে হামাস। এর পরিবর্তে ছয় সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি শেষে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

এদিকে, নেতানিয়াহুর নতুন প্রস্তাব নিয়ে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বিরোধীদল ইয়েশ আতিদ পার্টির প্রধান ইয়ার লাপিদ অভিযোগ করেছেন যে, নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে জটিল করে তোলার বিষয়টিকে রাজনৈতিক খেলার অংশ হিসাবে নিয়েছেন এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে।
এর আগে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেই সঙ্গে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সীমান্তে ‘সতর্কতা’ অবলম্বনের আহবানও নিয়েছেন।
