ভয়ানক সব ক্রুজ, ব্যালিস্টিক মিসাইল, উন্নত উপকূলীয় অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, হাজার হাজার মনুষ্যবিহীন আকাশ যানসহ বহু বিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে বসে আছে হিজবুল্লাহ। তাদের আছে উন্নত এবং সুরক্ষিত সাইবার সিস্টেম। এগুলো হিবুল্লাহর সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলের বেসামরিক এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ক্ষয়ক্ষতিসহ ব্যাপক প্রাণহানি হবে স্বীকার করে নিয়েছে স্বয়ং ইসরাইল।
হিজবুল্লাহর সক্ষমতা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসরাইলের থিঙ্কট্যাংক হিসাবে পরিচিত ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ। তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির নেতৃত্বে জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। আর চাঞ্চল্যকর এই খবরটি সামনে এনেছে লেবাননভিত্তিক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন। সেখানে বলা হচ্ছে, হিজবুল্লাহ’র অস্ত্রভাণ্ডারের ভয়ে থরথরিয়ে কাঁপছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার।
এবার হিজবুল্লাহ আতঙ্কের কথা সরাসরি স্বীকার করেছে দেশটি। ফিলিস্তিনের সমর্থক হিজবুল্লার সাথে যুদ্ধ শুরু হলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে ইসরাইল- এমন উদ্বেগই প্রকাশ পেয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রতিবেদন। সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, হিজবুল্লাহর বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় অস্ত্রভাণ্ডার ইসরাইলের ভয়ানক ক্ষতি করতে প্রস্তুত।
সেই সঙ্গে উত্তর ফ্রন্টে চলমান সংঘর্ষের ফলাফল কতটা ভয়ানক হতে পারে, সেই বিষয়ে জরিপ করেছে দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছে । সে কারণে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধ হলে সেটি দেশের জন্যে ধ্বংসাত্মক ফলাফল তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে প্রতিবেদনে।
আইএনএসএস-এর রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ৫ হাজারের বেশি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে লেবাননের এই গোষ্ঠী। এর মধ্যে আছে উচ্চ-ট্রাজেক্টরি গোলা, রকেট আর্টিলারি গোলা এবং সরাসরি-ফায়ার প্রজেক্টাইল, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল-যেটি নির্ভুলভাবে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।
শুধু তাই নয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধের আভাসই দুশ্চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণ। উদ্বেগের সাথে জানানো হয়েছে যে, ২০০৬ সালে ইসরাইলের সাথে লেবাননের যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহই তেল আবিবের জন্যে প্রধান সামরিক হুমকি। নিজেদের নাটকীয় অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এরমধ্যে অন্তত দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং অন্যান্য প্রাণঘাতি অস্ত্র মজুদে সক্ষম হয়েছে তারা।
এগুলোর মধ্যে আছে ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত উপকূলীয় অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, হাজার হাজার মনুষ্যবিহীন আকাশ যানসহ বহু বিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে বসে আছে হিজবুল্লাহ। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর আছে উন্নত এবং সুরক্ষিত সাইবার সিস্টেম। এগুলো সামরিক অস্ত্রাগারের সাথে যুক্ত হলে বেসামরিক এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক প্রাণহানী এবং অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হওয়ার তুমুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের সাথে হিজবুল্লাহর একবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তা টানা কয়েক মাস ধরে চলবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যাতে করে মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হবে ইসরাইল।