ফিলিস্তিনে 'জাতীয় ঐক্য' প্রতিষ্ঠার জন্য পশ্চিম তীরের ফাতাহ আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে গাজা উপত্যকার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এ বিষয়ে একটি চুক্তিও সই করেছে দলগুলো।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই'র সঙ্গে বৈঠক করেছেন হামাস, ইসলামিক জিহাদ, ফাতাহ আন্দোলন, লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) এবং ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন বা ডিএফএলপি'র প্রতিনিধিরা। এসময় হামাস ও ফাতাহ ছাড়াও ফিলিস্তিনের আরও ১২টি দল ওই চুক্তিতে সই করেছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠকের পর হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মুসা আবু মারজুক বলেন, আজ আমরা জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই করছি এবং আমরা জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হোসাম বদরান বলেন, এই ঘোষণাটি ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য অর্জনের পথে একটি অতিরিক্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বেইজিংয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চীন ও ফিলিস্তিন হলো পরস্পরের অংশীদার। চীন আশা করে, ফিলিস্তিনের দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে।
এর আগে, ফিলিস্তিনের ১৪টি দলের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা চীনের আমন্ত্রণে গত ২১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বেইজিংয়ে সমঝোতা-সংলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং সংলাপ শেষে যৌথ ঘোষণায় সই করেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংলাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, ফিলিস্তিনের ১৪টি দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা গাজা যুদ্ধের অবসানের পর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে একমত হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধোত্তর গাজার নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করতে হামাস ও ফাতাহ উভয়ই একটি ‘অন্তর্বর্তী জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গড়ার কাজ শুরু করেছে।
এর আগে ২০০৬ সালে গাজা উপত্যকায় জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল হামাস। এ নিয়েই ২০০৭ সালে হামাস ও ফাতাহের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। হামাসের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্য সরকার ভেঙে দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও ফাতাহ নেতা মাহমুদ আব্বাস। এরপর গাজা থেকে ফাতাহকে সরিয়ে ওই উপত্যকার একমাত্র শাসক হয়ে ওঠে হামাস।
পরে ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সরকার গঠন করে।