গাজায় যখন নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চলছে, তখন আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভাষণ রেখেছেন মার্কিন কংগ্রেসে। আর এই নিয়ে তোপের মুখেও পড়তে হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কসাইকে। বাইরে মুখোমুখি হতে হয় বিক্ষোভকারীদেরও।
এই সফরেই নেতানিয়াহু দেখা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে। দুই ডেমোক্র্যাটই গাজার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেতানিয়াহুর কাছে। চাপ দিয়েছেন হামাসের সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় পৌঁছাতে।
সংবাদ সংস্থা এপি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার গাজার যুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বাইডেন ও হ্যারিসের সঙ্গে বৈঠক হয় নেতানিয়াহুর। বৈঠকে দ্রুত লড়াই থামিয়ে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটার কথা নেতানিয়াহুকে বলেন বাইডেন। আর গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমলা হ্যারিসও।
সেই সঙ্গে তিনি সোজা ভাষায় জানিয়ে দেন, আমরা এই দুর্গতদের মুখ ভুলে যেতে পারি না। আমি অন্তত চুপ বসে থাকব না। কমলা হ্যারিসের এমন মনোভাব প্রকাশের পর তা নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে দেশটিতে। এমনটা বলা পেছনে সত্যিকারের কারণটা জানতে চাইছেন আমেরিকার নাগরিকরা।
কমলা হ্যারিনের কথার অর্থ বড় পরিসরে ভাবলে সেটি অনেকটা স্বাধীনতা ঘোষণার মতো। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমলাকে স্পষ্ট করতে হবে বিজয়ী হলে তিনি আসলে কী পদক্ষেপ নেবেন; আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি স্পষ্ট করতে হবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকটা হঠাৎ করে কমলা হ্যারিস মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় বাইডেনের ছায়ার বাইরে এসে নির্বাচনী প্রচারে কমলাকে তাঁর নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে হবে। সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
আর আল জাজিরা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অধিকারকর্মীরা জানতে চান, কমলা হ্যারিসের ‘চুপ থাকবেন না’ বক্তব্য আসলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য কী বার্তা বহন করছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তো ইসরাইলকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেয়ার যে মার্কিন নীতি, তা থেকে সরে না এসে শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা দেখালেই মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করা যাবে না। ইসরাইলের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের অব্যাহত সমর্থনের কারণে সরে গেছেন ডেমোক্র্যাট দলে ভোটাররা।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ইমান আব্দেলহাদি বলেন, গাজায় শিশুহত্যা বন্ধের প্রকৃত অঙ্গীকার ছাড়া কেবল সহানুভূতি প্রকাশে কিছু হবে না। যার মাথায় আপনি গুলি করছেন, তার জন্য আবার সহানুভূতি জানাচ্ছেন! এসব সহানুভূতি আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ যেন বন্ধ হয়, যার মাধ্যমে লোকজন হত্যার শিকার হচ্ছে। এমনটা হলে তা হবে প্রকৃত সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশ।
এরই মধ্যে কমলা হ্যারিসকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার দক্ষিণ ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, কমলা ইহুদিদের পছন্দ করেন না; ইসরাইলকে পছন্দ করেন না। ট্রাম্প কমলাকে ইহুদিবিদ্বেষী বললেও তাঁর স্বামী ডগলাস এমহফ ইহুদি।