চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে বড় হামলার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো চলতি সপ্তাহে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের জবাবে তারা এই হামলা চালাবে বলে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিবরি।  

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের এ মুখপাত্র বলেন, এই সপ্তাহের প্রথম দিকে ইরান ও তার মিত্ররা ইসরাইলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এখনও নিশ্চিত নয় যে, এই হামলার মাত্রা কেমন হবে। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।  

তবে আসন্ন হামলার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে কী ধরনের তথ্য রয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। 

আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে উল্লেখ করে কিবরি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টতই দেখতে চাই না যে ইসরাইলকে আরেকটি আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে হবে, যেমনটি তারা এপ্রিলে করেছিলো।

ইসরাইলে যদি আক্রমণ হয়, তাদের আত্মরক্ষার জন্য ওয়াশিংটন সাহায্য অব্যাহত রাখবো বলেও জানান তিনি।  

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিবরি।

এর আগে ৩১ জুলাই ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

তেহরানে যে ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেই ভবনে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ইসমাইল হানিয়া ও তার একজন দেহরক্ষী নিহত হন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া।   

হানিয়া হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত খবর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে এবং ওয়াশিংটনে জো বাইডেন প্রশাসনের সবুজ সংকেতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সূত্রগুলো।

হামাস প্রধানের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, হানিয়াকে হত্যার অপরাধে দখলদার ইসরাইলকে কঠিন জবাব দেয়া হবে। হামাস প্রধানের রক্তের বদলা নেয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।

হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া হত্যার ঘটনায় ইরানের রাজধানী তেহরানের জামকারান মসজিদে ‘ইয়ালাসারাত আল-হুসেইন’ বা আল-হোসেইনের আঘাত লেখা লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে এই লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড, গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, এমনকি ইরাকের সন্ত্রাস প্রতিরোধ আন্দোলন আইআরআই এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলে হামলার হুমকি দিয়েছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে এসব সংগঠন।