ভাবনার চেয়ে বেশি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াচে রোগ মাঙ্কিপক্সের নতুন ধরন। এরিমধ্যে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্সের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ইউরোপের রোগ প্রতিরোধ সংস্থার প্রধান শুক্রবার বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ইউরোপে মাঙ্কিপক্সের নতুন ধরনটি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে, টেকসই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম রয়েছে।
সংস্থাটি শুক্রবার ইউরোপে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাত্রা মাঝারি আকারে উন্নীত করেছে। আফ্রিকার যে সব দেশে মাঙ্কপক্সের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে ইউরোপের নাগরিকদের ঘনিষ্ঠ চলাচল থাকার কারণে রোগটি ছড়িয়ে পরার ঝুঁকি থাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মহাদেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপীয় কেন্দ্র রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের পরিচালক পামেলা রেন্ডি-ওয়াগনার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। তবে আমাদের সুবিধা হলো জনসংখ্যার ঘনত্ব কম থাকায় রোগটির সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেশি হবে না। এ কারণে সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা মধ্যম পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোতে মাঙ্কিপক্সের আরও বিস্তার রোধে প্রস্তুতি বাড়াতে এবং সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে মাঙ্কিপক্সের দুইটি আলাদা ধরন শনাক্ত হবার পর মহাদেশটিতে রোগটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার, সুইডেন আফ্রিকার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে মাঙ্কিপক্সের নতুন ধরনে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে। এর আগের দিনই বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানও মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে।
ইউরোপের সিডিসি সতর্ক করেছে, যদি এখনই ভাইরাসটি শনাক্তের সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে এটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। যথাযথ নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে ভাইরাসের এই স্ট্রেনের প্রভাব ইউরোপে কম হবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি মূলত পুরুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যারা পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এটি প্রতিরোধে কার্যকরী ভ্যাকসিনও রয়েছে।
মাঙ্কিপক্স হলো একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা ফ্লুর মতো উপসর্গ এবং পুঁজ-ভরা ক্ষত সৃষ্টি করে এবং সাধারণত হালকা হলেও বিরল ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে। এটি যৌন যোগাযোগসহ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাসের অন্যান্য রূপের তুলনায় মানুষের মধ্যে আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এর তীব্রতা এবং সংক্রমণ ক্ষমতা নিয়ে এখনও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।