জাপানে সানসানের প্রভাবে ট্রেন ও বিমান চলাচল ব্যাহত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘সানসান’। ঝড়টি বুধবারের মধ্যে দক্ষিণ জাপানের আমামি অঞ্চলের কাছে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বুলেট ট্রেন ও বিমান চলাচল।

মঙ্গলবার আমামির দিকে ধেয়ে আসা টাইফুনটির গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার। 

জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনটি এর শক্তি বজায় রেখে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত আমামি অঞ্চলের খুব কাছাকাছি চলে আসতে পারে এবং এরপর এটি জাপানের চারটি প্রধান দ্বীপের একটি, কিউশু'র দিকে যাবে।

ভারি বৃষ্টির কারণে হামামাটসু ও তায়োহাশির কেন্দ্রীয় শহরগুলোর মধ্যে বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেয়ার পর স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তা পুনরায় চালু করা হয়। 

জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার ও বুধবার ১১৬টি আভ্যন্তরীণ এবং ছয়টি আন্তর্জাতিক রুটের বিমান চলাচল বাতিল করেছে। 

আমামি দ্বীপপুঞ্জের পাশাপাশি পশ্চিম ও পূর্ব জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

সংস্থাটি বাসিন্দাদের বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে শিজুকা ও আমামি অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, ভূমিধস ও প্রবল ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানে চলতি মাসে টাইফুন অ্যামপিলের কারণে কয়েকশ’ ফ্লাইট ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঝড়টির কারণে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও এটি টোকিওতে সরাসরি আঘাত না হেনে অঞ্চলটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। এর কয়েকদিন পর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মারিয়ার প্রভাবে জাপানের উত্তরাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। 

গেলো মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে ঝড়গুলো উপকূল রেখার কাছাকাছি সৃষ্টি হয়ে দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে স্থলভাগে আঘাত হানছে।