নবান্ন অভিযানকে ‘বিশৃঙ্খল তাণ্ডব’ বললো পুলিশ, গ্রেপ্তার ২২০

কলকাতার আরজিকর হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’ -এর ডাকা নবান্ন অভিযান থেকে ২২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও অনেককে। 

মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযানকে ‘বেলাগাম, বিশৃঙ্খল তাণ্ডব’ ও ‘অশান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন’ বলে অভিহিত করেছে কলকাতা পুলিশ। 

সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে বলে বলা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা দেখলাম অশান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। এই আন্দোলন কখনও বাংলার প্রকৃত ছাত্র সমাজের হতে পারে না। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিলো সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্ররোচনা দেয়ার চেষ্টা হবে। যাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। আমাদের সেই আশঙ্কা অনেকটা সত্যি হয়েছে।

এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) মনোজ বর্মা এবং ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। (বাঁ দিক থেকে) ছবি- আনন্দবাজার।

কলকাতা পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ২২০ জনের মধ্যে ২৩ জন নারীও রয়েছেন। এছাড়া রাজ্য পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আরও ৯৪ জন। 

এদিকে নবান্ন অভিযানে ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এডিজি সুপ্রতিম। 

হাওড়া স্টেশন থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নেপথ্যে যে চক্রান্ত করা হয়েছিলো, সে সম্পর্কে তাদের কাছে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য’ রয়েছে। এরা লাশ ফেলার কথা বলেছিল। তার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

তিনি জানান, ওই অভিযুক্তদের আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরে নবান্ন অভিযানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। 

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র সমাজের নামে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আন্দোলনের চেহারা দেখে মনে হয়নি যে, রাজ্যের প্রকৃত ছাত্রসমাজ এমন অসভ্যতা করতে পারে। বাংলার কোনো ছাত্র এই রকম গুন্ডামি করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। কারা আক্রমণ করেছেন, পুলিশ কতক্ষণ অপেক্ষা করেছে, তা সবার চোখের সামনেই ঘটেছে। 

পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, সকাল ৮টা থেকে রাস্তায় ছিলাম। ১১টা নাগাদ ইটবৃষ্টি শুরু করে দুষ্কৃতিকারীরা। আমাদের প্ররোচনা দেয়া হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি, যাতে আইনশৃঙ্খলা না ভাঙে। পুলিশ বাধ্য হয় তাড়া করে। আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। 

এর আগে কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয় নবান্ন অভিযানের ডাক দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একত্রিত হওয়া শিক্ষার্থীরা। যদিও ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও সিপিএমের অভিযোগ, ছাত্রদের নামে এই অভিযান করছে বিজেপি ও আরএসএস।

বিজেপির দাবি, ছাত্রদের এই নবান্ন অভিযানকে তারা সমর্থন করেছে মাত্র। তবে মাঠের চিত্র বলছে, এদিন পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলা থেকে বিজেপি ও আরএসএস-এর কর্মী-সমর্থকরা নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্যে কলকাতায় জড়ো হন।

এই কর্মসূচি ঘিরে নবান্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা।

দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাজ্যব্যাপী ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার থেকে তারা ধরনায় বসবে বলেও জানিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দলটি।

পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার তারা সমস্ত পরিববহণের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখার জন্য সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত আরজিকর হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর এটি মমতার পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। ‘দফা এক দাবি এক, মমতার পদত্যাগ’ প্ল্যাকার্ডে এমন স্লোগান লিখে রাস্তায় নেমেছেন তারা।