শত শত রকেট হামলা চালিয়ে ইসরাইলের এক সামরিক ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বেশ কয়েকটি রকেট প্রতিহত করার দাবিও করেছে ইসরাইল। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা বেশ কিছু ভিডিও চিত্র দেখা গেছে হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে ঘাঁটিটি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সাফাদ শহরের কাছে দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি বিরিয়া ব্যারাকে বিপুল সংখ্যক রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইলি বাহিনী হামলার বিষয় নিশ্চিত করে বলেছে, প্রায় ২০টি প্রজেক্টাইল সাফাদের দিকে ছোঁড়া হয়েছিলো।
তবে এগুলোর বেশিরভাগই কটরে আটকানো হয়েছিল বা খোলা জায়গায় পড়েছে বলে দাবি ইসরাইলের। হামলায় কোনো আহত হয়নি। তবে, এই হামলায় পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের দুইটি জায়গায় আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসের ছবি ভাইরাল হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের মালিকিয়াহ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়। এছাড়াও, রোশ হা-নিকরা এবং মেৎজুভা এলাকার বসতিগুলোও তাদের লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যদিও ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই আক্রমণগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, হিজবুল্লাহর আরবাঈন অভিযানে ২২ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে লেবানন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-মায়াদিন। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা গ্যালিলি ঘাঁটিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ৮২০০ ইউনিটের বিরুদ্ধে চালানো ওই হামলা অত্যন্ত সফল হয়েছিলো।
হিজবুল্লাহর ছয়টি ড্রোন ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে তেল আবিবের কাছে অবস্থিত গিলট ঘাঁটির অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলার পর, ইসরাইলি বাহিনী ঘাঁটির চারপাশে কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত একটি কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হিজবুল্লাহর ওই অভিযানে ২২ জন ইসরাইলি গোয়েন্দা সদস্য নিহত এবং ৭৪ জন আহত হন। ওই হামলার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ৮২০০ ইউনিটের কমান্ডার তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
হিজবুল্লাহ প্রধান সাঈদ হাসান নাসরাল্লাহ অভিযানের পর সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এ অভিযানের প্রথম লক্ষ্য ছিলো সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটের গিলট ঘাঁটি। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল ‘আইন শামর’ বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, যা লেবানন থেকে ৭৫ কিলোমিটার এবং তেল আবিব থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাতে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর এ সামরিক অভিযানকে ‘আরবাইন অপারেশন’ বলে অভিহিত করেন সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নেতা হাসান নাসরাল্লাহ।
লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নিজেদের সর্বস্ব নিয়ে গাজাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়েছে লেবানন। নিরীহ গাজাবাসীর আর্তনাদ যতদিন না থামছে, ততোদিন ইসরাইলে হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।