লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলা

লেবাননজুড়ে একযোগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ও চলমান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। এসময় হিজবুল্লাহর শতাধিক রকেট লঞ্চার এবং একটি অস্ত্র গুদামে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারগুলো গেলো কয়েকদিন ধরে ইসরাইল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিলো। 

সংস্থাটি বলছে, ইসরাইল রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য হিজবুল্লাহর অবকাঠামো এবং সক্ষমতা লক্ষ্য করে তারা এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাবে। 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর তেল আবিবের পক্ষ থেকে এটিই ছিলো সবচেয়ে বড় হামলা। 

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কমপক্ষে ৫২টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। জবাবে লেবাননও উত্তর ইসরাইলের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

লেবাননজুড়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ বলেছিলেন, ইসরাইল সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। তার ওই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটিতে বিমান হামলা চালায় নেতানিয়াহু সরকার।     

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে, দুটি অ্যান্টি ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। 

আইডিএফ জানিয়েছে, এ হামলায় দুই ইসরাইলি নিহত এবং একাধিক সেনা গুরুতর আহত হয়েছে।

এর আগে লেবাননজুড়ে একযোগে পেজার বিস্ফোরণে বহু হতাহতের রেশ কাটতে না কাটতেই একদিনের মাথায় বুধবার দেশটিতে একযোগে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।

লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি নেতানিয়াহু সরকার।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বুধবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসরাইল গাজা যুদ্ধের একটি "নতুন পর্ব" শুরু করেছে। এবার লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ইসরাইল। 

লেবাননজুড়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রহস্যময় বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ না করেই গ্যালান্ট বলেন, তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থা ভালো কাজ করেছে,ফলাফল খুবই চিত্তাকর্ষক! 

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, লেবাননের সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে ইসরাইলি সরকারের একটি দূরবর্তী সাইবার আক্রমণের ফলে বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে।

এসব বিস্ফোরণের পরিকল্পনা কয়েকমাস আগে থেকেই করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।

চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননে সন্ত্রাসী কায়দায় সাইবার হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।