ইরানি হ্যাকাররা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার কিছু তথ্য হ্যাক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণার সাথে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই), সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয়।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির দৌড় থেকে বাদ পড়ার আগে জুনের শেষের দিকে এবং জুলাইয়ের শুরুতে এ তথ্যগুলো পাঠানো হয় বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। খবর বিবিসি’র।
তবে, হ্যাকাররা কোনও প্রাপকের কাছ থেকে কোনও উত্তর পেয়েছে- এমন কোনও প্রমাণ এখনও নেই। যদিও গত আগস্টে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, ইরান মার্কিন নির্বাচনে ‘বিরোধ সৃষ্টি’ এবং নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নষ্ট করার তৎপরতা চালাচ্ছে।
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এফবিআই বলছে, ইরানি হ্যাকাররা গত জুন মাস থেকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতেও সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণার হ্যাকিং করা তথ্যগুলো পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, ইরানের হ্যাকিংয়ের বিষয়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, হ্যাকিংয়ের বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে কমলা হ্যারিস ও জো বাইডেনকে সহায়তা করতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে ইরান। কারণ ইরানের কর্মকর্তারা জানেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
এ সময় তিনি বাইডেনের সহযোগীদের কাছে পাঠানো এসব ইমেইলের কী করা হয়েছে, বাইডেন ও কমলার কাছে সেটার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। লেভিটের প্রশ্ন, তারা কী জেনেছিলেন? তারা কখন এসব জেনেছিলেন?
ট্রাম্পও বুধবার হ্যাকিংয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেন, সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা (ইরান) তাদের সমস্ত উপকরণ দিয়েছে কারণ বাইডেন ইরানের সাথে কাজ করছে।
হ্যারিস-ওয়ালজ প্রচারণার একজন মুখপাত্র মরগান ফিঙ্কেলস্টেইন বলেছেন, তারা হ্যাক সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যক্ষভাবে প্রচারে পাঠানো কোনও উপাদান সম্পর্কে আমরা সচেতন নই। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের যেকোনো বিদেশি প্রচেষ্টাকে তারা ‘জোরালো ভাষায়’ নিন্দা জানানো হবে বলেও জানান ফিঙ্কেলস্টেইন।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনও উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায় নেই। তাই আমরা স্পষ্টভাবে এই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করি।’
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা ও সন্দেহভাজন সম্পর্কে যা জানা গেলো