বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ১৪

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালিয়ে শিশুসহ অন্তত ১৪ জনকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন। এ হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দক্ষিণ বৈরুতের জামাস স্ট্রিটের একটি ভবনে এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুও রয়েছে। 

সংস্থাটি বলেছে, একটি এফ-৩৫ জেট জামাস স্ট্রিটের আবাসিক এলাকায় দুইবার হামলা চালায়। 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলসহ বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। 

lebanon3

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, এই হামলা যুদ্ধের একটি নতুন পর্বের অংশ। আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাবো, এমনকি বৈরুতের দাহিয়াতেও।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের লক্ষ্য পরিষ্কার এবং আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাবো।

হিজবুল্লাহ শনিবার সকালে ইব্রাহিম আকিলের নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে তার মৃত্যুর ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেছেন, এই হামলা আবারও প্রমাণ করলো যে দখলদার ইসরাইলি কোনো মানবিক, আইনি বা নৈতিক বিবেচনাকে গুরুত্ব দেয় না।

lebanon

এর আগে লেবাননজুড়ে একযোগে পেজার বিস্ফোরণে বহু হতাহতের রেশ কাটতে না কাটতেই একদিনের মাথায় বুধবার দেশটিতে একযোগে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

এসব বিস্ফোরণের পরিকল্পনা কয়েকমাস আগে থেকেই করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি নেতানিয়াহু সরকার।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। এসময় হিজবুল্লাহর শতাধিক রকেট লঞ্চার এবং একটি অস্ত্র গুদামে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। 

গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।

চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। এর জেরেই ইসরাইল এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গেরিলাদের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে।