দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হবে বিকেল ৪টায়। ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে রোববার।
এ নির্বাচনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর একজন প্রার্থী মারা যান। এক কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার পাঁচ বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।
ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বুধবার মধ্যরাতে শেষ হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে একজন ভোটার মোট তিন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কোনো একজন প্রার্থী কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি ভোট পেলে তাকেই বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা (রান-অফ) ভোট হবে।
এ নির্বাচনকে পরবর্তী নেতা বাছাইয়ের পরিবর্তে আইএমএফের কর্মসূচির ওপর গণভোট হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।

এ বছর প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশ ছাড়ার পর ২০২২ সালে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান।
এছাড়াও শক্ত অবস্থানে আছেন বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়েগার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাও এবং ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার পার্টির নেতা অনুড়া কুমার দিসানায়েক।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার রাজাপক্ষে পরিবার থেকেও একজন প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ৩৮ বছর বয়সী নমল রাজাপক্ষে। এই পরিবার থেকে অতীতে দুজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। নমলের বাবা মাহিন্দা রাজাপক্ষে আর চাচা গোতাবায়া রাজাপক্ষে দুজনেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।। নমল লড়ছেন শ্রীলঙ্কান পদুজন পেরামুনা (এসএলপিপি) দল থেকে।
এর আগে অর্থনৈতিক মন্দার জেরে ২০২২ সালে দেশতিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে একই বছরের মে মাসে হাজার হাজার মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের বাসভবনে ঢুকে পড়ে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন গোতাবায়া।
পরে ক্ষমতায় বসেন রনিল বিক্রমাসিংহে। পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। গেলো দুই বছরে বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক মন্দা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।
২০২২ সালে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ দেউলিয়া হওয়ার পর এখনও শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ শুরু করেনি। দেশটির ওপর এখনও চার হাজার ৬০০ কোটি ডলার বা ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ রয়েছে।
অর্থনৈতিক মন্দা অনেকটা কেটে গেলেও শ্রীলঙ্কায় বেঁচে থাকতে এখনও লাখ লাখ মানুষ রীতিমতো সংগ্রাম করছে।
ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণা ১১১ রিপাবলিকান এমপির