ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যা ও লেবাননে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জেরে ইসরাইলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে লেবানিজ সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিনগত রাতে উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরের পূর্ব দিকের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ।
এক বিবৃতিতে হামলার কথা নিশ্চিত করে ইরান সমর্থিত সংগঠনটি জানায়, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে এবং লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এদিন হামলা চালাতে ফাদিয়া-১ ও ফাদিয়া-২ রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তারা ইসরাইলে যেসব রকেট ছুড়েছিলো তা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সোভিয়েত রাশিয়ার তৈরি কাতিউশা রকেট।
এদিকে এ হামলার জেরে রোববার মধ্যরাতের পর উত্তর ইসরাইলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
উত্তর ইসরাইলে মানুষের জমায়েতের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হাইফাতেও এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবানন থেকে অন্তত ১০টি রকেট ছোড়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এসব রকেটের অধিকাংশই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননজুড়ে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এছাড়াও গত শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের শরতলিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩৮ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়।
লেবাননজুড়ে একযোগে পেজার বিস্ফোরণে বহু হতাহতের রেশ কাটতে না কাটতেই একদিনের মাথায় বুধবার দেশটিতে একযোগে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এসব বিস্ফোরণের পরিকল্পনা কয়েকমাস আগে থেকেই করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি নেতানিয়াহু সরকার।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। এর জেরেই ইসরাইল এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গেরিলাদের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে।