কলকাতার ট্রাম বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি

কলকাতার ঐতিহ্য ১৫১ বছরের ট্রামকে বাঁচাতে এবার পথে নামল ট্রামপ্রেমী আমজনতা। ট্রামকে বাঁচাতে ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এবং আমজনতা মিলিতভাবে শ্যামবাজার ট্রাম ডিপোতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। 

বৃহস্পতিবার শ্যামবাজার ট্রাম ডিপোতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত থেকে ক্ষোভ জানান অনেকেই ৷ গত সোমবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর ট্রাম বন্ধের ঘোষণার পরেই ট্রাম প্রেমীরা এই পরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে আগের চেয়ে আরও বৃহৎভাবে সংঘবদ্ধ আন্দোলনে নামার ডাক দেন ৷ 

উল্লেখযোগ্যভাবে বৃহস্পতিবারের এই বিক্ষোভ ও জমায়েতে একাধিক পথচলতি মানুষ এসে যোগ দেন এবং ট্রাম যে তাদের কাছেও একটা বড় আবেগ, সেটা বুঝিয়ে দেন তারা। 

ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য দীপ দাস জমায়েতে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ বারবার বলছে যে, ট্রাম লাইন নাকি যানজটের সৃষ্টি করে। কথাটা একেবারেই ভুল। কারণ, ট্রাম তার নির্দিষ্ট ট্রাকের ওপর দিয়েই চলে। যদি সেই ট্রাকের ওপরে অন্য গাড়ি চলে আসে বা সেই ট্রাকের ওপরে গাড়ি পার্ক করা হয়, তাহলে ট্রাম চলবে কোথা দিয়ে? 

তিনি আরও বলেন, বলা হচ্ছে যে ট্রামে নাকি যাত্রী হয় না ৷ তবে যে রুটগুলিতে অনেক সংখ্যক যাত্রী হয়, সেই রুটগুলি আপাতত বন্ধ। এমনকি দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য যেমন থেরুবন্তপুরম এবং কচিতে অত্যাধুনিক ট্রাম চালাবার কথা চিন্তা ভাবনা করছে । এমনকি পাকিস্তানের লাহোরেও ট্রাম চালু করার পরিকল্পনা চলছে। যদি লাহোর নতুন করে ট্রাম চালাবার কথা ভাবতে পারে, তাহলে কলকাতার কাছে সব কিছু থাকার পরেও ট্রাম এই শহর থেকে গুটিয়ে দেওয়ার কথা কেন চিন্তা করা হচ্ছে?

ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের আরেক সদস্য সাগ্নিক গুপ্ত বলেন, ট্রাম বন্ধ হয়ে যেতে পারে খবরটা ছড়িয়ে পড়ার পরেই সাধারণ মানুষ এমনকি যারা কলকাতা থাকেন না, তারাও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। সবাই কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা কর্পোরেশনকেই দায়ি করছেন । যেমন, দুর্গাপুজো বা হাওড়া ব্রিজ শহর কলকাতার একটা সিগনেচার, তেমনই ট্রামও কলকাতার সিগনেচার। 

এখন বিশ্বের সাড়ে চারশো শহর রমরম করে ট্রাম চালাচ্ছে । তারা তো অনেক উন্নত দেশ। তাহলে নিশ্চয়ই পরিবহণ মাধ্যম হিসেবে ট্রামের উপকারিতা রয়েছে বলেই তারা চালাচ্ছে ৷ অথচ কলকাতায় ট্রাম যা একটি পরিবেশ বান্ধব যান এবং এত কম খরচে শহরের এক প্রান্তর থেকে আরেক প্রান্তে যাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছে, এর উপকারিতাগুলো কেন চোখে পড়ছে না রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের?