মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির গণতন্ত্রপন্থী দলগুলোকে অস্ত্র ত্যাগ করে আগামী বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহবান জানিয়েছে। জবাবে বিদ্রোহী দলগুলো এই আহবান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অবৈধ জান্তা সরকারের নির্বাচন আয়োজনের কোনো এখতিয়ার নেই।
এর আগে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের জান্তা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী এ বিবৃতি প্রচার করে। এতে বলা হয় যে, সাধারণ নির্বাচনের আগে আগামী সপ্তাহ থেকে একটি আদমশুমারি শুরু হবে। এখন তারই প্রস্তুতি চলছে।
বিদ্রোহীদের জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দেয়া এই প্রস্তাব বিবেচনার যোগ্য নয়। খবর এনএইচকে'র।
মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ ও থাম্মাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দুলিয়াপাক প্রিচারাশ বলেন, জান্তা সরকারের এই প্রস্তাবের পেছনে সম্ভবত চীনের বর্ধিত চাপ থেকে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চীন মিয়ানমার সরকারের প্রতি তার সমর্থন বাড়িয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তাদের স্বার্থ রক্ষিত হওয়া সাপেক্ষে বেইজিং বিভিন্ন পক্ষকে আলোচনার জন্য চাপ দেয়ার চেষ্টা করছে।
২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত পাঁচ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।