উত্তর গাজায় পোলিও টিকার কার্যক্রম বন্ধ

উত্তর গাজায় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলা জোরদার করায় শিশুদের পোলিও টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জাতিসংঘ। যদিও মধ্য গাজা ও উত্তর গাজায় এই কার্যক্রম এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তবে উত্তর গাজার শিশুদের মধ্যে পোলিওর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সেখানকার মানুষ।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজা উপত্যকার, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষজন রয়েছেন সবচেয়ে মানবেতর অবস্থায়। গত তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে কোন রকম ত্রাণ প্রবেশ না করতে দিয়ে অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর খুনে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

এমনই এক প্রাণঘাতী বিমান হামলার মুখে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে যান ফিলিস্তিনি নারী হানান হেমেদা। আট সন্তানের মা হেমেদা এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন উত্তর গাজায় পোলিওর দ্বিতীয় টিকা কার্যক্রম স্থগিত হওয়া নিয়ে।

হেমেদা বলেন, আমার ৮ সন্তান। দু’মাস আগে তাদেরকে পোলিও টিকার প্রথম ডোজ দিয়েছিলাম। দ্বিতীয় ডোজ শিগগিরই না দিলে হবে না। কিন্তু ইসরাইলি অবরোধের কারণে সে কার্যক্রম বন্ধ। এবার বাচ্চাদের কি হবে? পোলিও হলে বাচ্চারা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এ থেকে ওদেরকে রক্ষা করবো কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, আমরা দুইদিন আগে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির হামলার মুখে পালিয়ে এসেছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। গাজার প্রতিটা শিশু বিশ্বের অন্য সব শিশুর মতো স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু পোলিওর টিকা না পেলে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে।

gaza1

হামাসের সদস্যদের পুর্নসংগঠিত হওয়া রুখতে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা বাড়ায় ইসরাইলি সেনা। হামাস নেতা ইয়াহিয়া আল সিনওয়ারের মৃত্যুর পর এ হামলা আরও কঠোর করে দেশটির সেনারা। এর মধ্যেই শনিবার মধ্য গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় নেয়া একটি স্কুলে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত ও ৪২ জন হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই নারী ও শিশু।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মধ্য গাজা ও দক্ষিণ গাজায় পোলিওর দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্পন্ন হলেও উত্তর গাজায় অনবরত হামলার কারণে তারা সেখানে এ কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংস্থাটির একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, আসছে শীতকাল, বাচ্চাদের এ সময় ভাইরাসের আক্রমণ অনেক বেশি হয়। পোলিও হলে শিশুরা চোখের সামনে পঙ্গু হয়ে যাবে। এটা কি মেনে নেয়া যায়?  আমি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অনুরোধ করবো, অন্তত উত্তর গাজায় পোলিওর দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার ব্যবস্থা করুন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বুধবারের এ কার্যক্রমে গাজার ১ লাখ ১৯ হাজার শিশুকে পোলিওর দ্বিতীয় টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দ্বিতীয় ডোজ দিতে না পারায় ভাইরাসজনিত ভয়াবহ এ রোগের সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে না বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ১ সেপ্টেম্বর ২৫ বছরে প্রথম গাজায় কোন শিশুর দেহে পোলিও শনাক্তের পর এর টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।