স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে মাঠে নামলো সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্য জয়ের আশা নিয়ে শুরু করা যুদ্ধে এবার সর্বহারা হয়েই ফেরত যেতে হচ্ছে ইসরাইলের খুনে নেতা নেতানিয়াহুকে। লেবাননে অসম্মানজনক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনার মধ্যেই আরও খারাপ খবর এসেছে ইসরাইলের জন্য। এতো দিন দাবি জানিয়ে আসলেও এবার প্রথমবারের মতো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সরাসরি মাঠে নেমেছে সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম দেশ সৌদি আরব। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রায় একশোটি দেশকে এক টেবিলে এনে জড়ো করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান।

মুসলিম দেশগুলোর অন্যতম দুই স্তম্ভ সৌদি ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই ছিল বৈরি সম্পর্ক। আর এই শত্রুতা উস্কে দেয়ার পেছনে অব্যাহতভাবে কাজ করে গেছে ইসরাইল ও এর মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনীরা এমন এক সন্দেহ ঢুকিয়েছিল যে, সৌদি আরব মনে করতো ফিলিস্তিনকে ব্যবহার করে আসলে ইরান মধ্যপ্রাচ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাচ্ছে। আর, এজন্য ইরান নিয়ন্ত্রিত হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ছিল তীব্র শত্রুতা। ইরানকে দমনের নামে রিয়াদের সাথে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজও শুরু করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।

X09

তবে এক বছর ধরে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের নির্বিচার গণহত্যায় এবার ভুল ভেঙেছে সৌদি আরবের। মোহাম্মদ বিন সালমান বুঝতে পেরেছেন, ইরানের সাথে বৈরিতা জিইয়ে রেখে এতদিন নিজেদের আগ্রাসন বাড়িয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই শক্তিশালী মুসলিম দেশের বিভেদকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়াকে মুছে ফেলতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

তবে দেরিতে হলেও ঘুম ভেঙেছে সৌদি আরবের। ইরানের বাড়ানোর বন্ধুত্বের হাতে হাত মিলিয়ে এবার মুসলিম বিশ্ব এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। গাজাজুড়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে চালানো গণহত্যায় সৌদির সমর্থন আদায় করা তো দূরের কথা, মুসলিম দেশগুলোর কাছে ইসরাইল এখন শুধুই ঘৃণার নাম। বিশ্বজুড়ে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব এতো তীব্রতা আগে কখনোই পায়নি।

X10

মুসলমানদের উপর ইসরাইলের আগ্রাসন চিরতরে বন্ধে উঠে পড়ে লেগেছে সৌদি আরব। গেল সেপ্টেম্বরেই সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন- ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ছাড়া ইসরাইলের সাথে কোনদিনই সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি। এবার স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে ৯০ টির বেশি দেশকে রিয়াদে এক করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদির উদ্যোগে দ্বিরাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের নতুন এই আন্তর্জাতিক জোটটি গেল মাসেই আত্মপ্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আদায়ে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়ার মতো দেশগুলো  এক কাতারে সমবেত হয়েছে।

বুধবারের এই বৈঠকে ইসরাইলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। জানায় ফিলিস্তিনি জনগণকে নিজেদের ভূমি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করাই ইসরাইলের এই নির্বিচার গণহত্যার উদ্দেশ্য। তবে সৌদি আরব সেটা হতে দেবে না। ফিলিস্তিনজুড়ে ইসরাইলের দানবীয় আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রবিরতি কার্যকরে নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর নেতানিয়াহুর আগ্রাসন বন্ধে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোন বিকল্প নেই বলেও স্পষ্ট বার্তা দেয় সৌদি।

X11

জাতিসংঘের ১৯৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৬টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সব আন্তজার্তিক আইনকে তুচ্ছ করে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ফিলিস্তিনকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার মিশনে নেমেছে নেতানিয়াহু। এক বছরে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর হাতে ৪৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ত্রাণ ও অবরোধে গাজার সব মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘও।