ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে মিথ্যার উপর ভর করে। ফলে সেই রাষ্ট্রের শাসকরা মিথ্যা বলবে এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের সব অবৈধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ ধামাচাপা দিতে জায়নবাদি শাসকরা নিজের ঘর থেকে বিশ্ব মঞ্চ- সর্বত্র নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে হতাহত সৈনিকের সংখ্যা গোপন করেছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যর কসাই হিসাবে খ্যাত দেশটির খুনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন দেশটির বিরোধীদলের প্রধান নেতা।
সোমবার ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এমন অভিযোগ এনে তোপ দাগিয়েছেন ক্ষমতাসীন নেকানিয়াহুর বিরুদ্ধে, চেয়েছেন কৈফিয়ত। বিরোধী দলের নেতা লাপিদ বলেন, এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর সরকার কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, নিহতের সঠিক সংখ্যা সামনে আনা হচ্ছে না। গত এক বছরে হামাসের হাতে ১২ হাজারেরও বেশি সেনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে নিহত হয়েছে ৮৯০ জন। আহত হয়েছে আরও ১১ হাজার সেনা। আহতদের মধ্যে অনেককেই বরণ করে নিতে হয়েছে পঙ্গুত্ব। ছারখার হয়েছে সেনাদের সংসার।
যদিও, ইসরাইলি সরকার দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধে ৭৭২ জন সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার ১০০ সেনা আহত হয়েছে। তবে এমন দাবি মানতে পারছেন না দেশটির বিরোধী নেতারা। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছেন।
এদিকে, ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগে ১২ হাজার সেনা চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। যার মধ্যে মানসিক সমস্যায় ভোগা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার সেনাও রয়েছে। তারা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) সমস্যা নিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছেন।
অপরদিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা ১৪ শতাংশ সেনা মাঝারি থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় এখানে এসেছিলেন। এরমধ্যে ২৩ জন সেনার মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ৬০ জনের অঙ্গহানি হয়েছে এবং ১২ সেনা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। চিকিৎসা নেয়াদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেনা দুইবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসেছিলেন।