মাত্র ১৩ মাস আগেও কেউ যদি বলতো, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে স্বীকৃতি না দেয়া ফিলিস্তিনের উপর, তাহলে অনেকে সেটাকে পাত্তাই দিতো না। তবে নির্বাচনের এক সপ্তাহের কম সময়ে এসে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সুতোয় ঝুলছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাগ্য।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প- কে জয়ী হবেন তা বেশিরভাগটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে এই দুই নেতার পররাষ্ট্র নীতির উপর। জরিপগুলোর ফলাফল বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় পাল্লা ভারি হয়ে উঠেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
আসছে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নতুন প্রেসিডেন্টের সাথে বদলে যাবে প্রশাসনও। তাই এই নির্বাচনের দিকে চোখ থাকে পুরো বিশ্বের। ভোটারদের সমর্থন পেতে জোরালো প্রচারণায় নামেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা। এসব প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনের সাথে বাণিজ্য বিরোধ, অভিবাসন, গর্ভপাত, বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো।
কিন্তু প্রচারের শেষ পর্যায়ে এসে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু। ইরানকে দমনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদে নিয়ন্ত্রণে ইসরাইলের প্রতি অন্ধ সমর্থন বজায় রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়ায় আক্রমণ ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার জানিয়ে তেল আবিবকে সব দায় থেকেও দূরে রেখেছে ওয়াশিংটন। নেতৃত্বের পরিবর্তনে বদল আসেনি ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনে।
তবে গেল বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রও। ব্যাপক গণহত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞে মানবতা ধুলায় মিশে দিলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোন রা করেনি বাইডেন প্রশাসন। ত্রাণ বন্ধসহ ফিলিস্তিনিদের খাবার, চিকিৎসার মতো মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করলেও নীরব মার্কিন প্রশাসন। এমন অবস্থানে এখন দ্বিধা-বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ।
ডেমোক্র্যাটরা এতোদিন যে লাখো লাখো আরব মুসলিমকে ভোট ব্যাংক মনে করতো, সেখানে টান পড়েছে। নির্বাচনে পাল্টে গেছে পাশার দান। বাইডেনের শাসনামলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে রক্তাক্ত সময় পার করছে মধ্যপ্রাচ্য। এজন্য বাইডেনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন বেশিরভাগ মানুষ। বাইডেন আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সেই দায় এড়াতে পারছেন না কমলা হ্যারিসও।
তড়িঘড়ি করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মূল ফিলিস্তিনে ইসরাইলির নগ্ন গণহত্যার বিরুদ্ধে সামান্য নিন্দাও জানাতে পারেননি বাইডেন। একই ইস্যুতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সাথেও বিভেদ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়েছে মুসলিমরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সংগঠনগুলো এরিমধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন- মিশিগানের মতো ‘দোদুল্যমান’ অঙ্গরাজ্যে মুসলিম ভোটারদের কমলার প্রকাশ্য বিরোধিতা গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। অন্য রাজ্যগুলোতেও নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন কমলা। অন্যদিকে ভোটার টানতে একেক সময়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের পক্ষে পরস্পরবিরোধী প্রতিশ্রুতি দিলেও আনপ্রেডিক্টেবল ট্রাম্পের পক্ষেই বাজি ধরতে চাচ্ছেন মুসলিম ভোটাররা।