গেলো ৫৩ বছর ধরে ‘আসাদ’ পরিবার একচ্ছত্রভাবে সিরিয়া শাসন করে আসছিলো। বিদ্রোহীরা দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সেই একনায়কতন্ত্রের অবসান হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহীরা ঘোষণা করেছে ‘স্বৈরশাসক’ প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং সিরিয়া এখন মুক্ত।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে গেছেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি সিরিয়া শাসক করে আসছিলেন। এর আগে তার বাবা ৩০ বছর ধরে সিরিয়ার শাসক ছিলেন। বাশার একন কোথায় আছেন, তা নিয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামের একটি ইসলামিক সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা চলমান অভিযানের নেতৃত্বে আছে তাদের টেলিগ্রাম হ্যান্ডেলে বলেছে, বাশারের পতনের মাধ্যমে একটি অন্ধকার যুগের অবসান ঘটেছে এবং সিরিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, রেডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহীরা। দেশটির সরকারি সব প্রতিষ্ঠান থেকে সামরিক বাহিনীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল-শামের প্রধান আবু মোহাম্মেদ আল-জোলানি। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকবে।
দামেস্কের পথে পথে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে। গত বুধবার থেকে হায়াত তাহরির আল-শামের বিদ্রোহীরা সরকারবিরোধী মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে উত্তর-পশ্চিমে সফলভাবে একটি বড় আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এরপর তারা ধীরে ধীরে রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে।
বিদ্রোহীরা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে এবং তারপরে রাজধানী দামেস্কের মহাসড়কের নিচে দক্ষিণ দিকে চলে যায়, কারণ ততক্ষণে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ভেঙে পড়ে। অনেক সিরিয়ান জানান, তারা স্বাধীনতার নতুন অনুভূতি অনুভব করছেন; যদিও কেউ কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
এর আগ পর্যন্ত সিরিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছে কে?
কয়েক বছর ধরে মনে করা হচ্ছিলো, রাশিয়া, ইরান এবং ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের সহায়তায় সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাতা নিয়ন্ত্রণে বাশার আল-আসাদ সিরিয়ায় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ কার্যকরভাবে শেষ করতে পেরেছেন। তবে এরপরও সিরিয়ার বড় একটি অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলো।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন জোট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিজেদের দখলে রেখেছিলো। বিদ্রোহীদের শেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল আলেপ্পো এবং ইদলিব প্রদেশে। এই দুটো প্রদেশ তুরস্কের সীমান্তবর্তী এবং চার মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস করে।
এই দুই প্রদেশেই ইসলামপন্থী এইচটিএস গোষ্ঠীর আধিপত্য ছিলো। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বিদ্রোহী ও জিহাদি দলও সেখানে ছিলো। এদের মধ্যে তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী দলগুলো, যা সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ) নামে পরিচিত। তুর্কিদের সমর্থনে তারা ইদলিব ও আলেপ্পোতে প্রভাব বিস্তার করে।
হায়াত তাহরির আল-শাম কি?
বিদ্রোহীদের নতুন এই অভিযানের প্রাথমিক নেতৃত্ব দিয়েছে ইসলামি জঙ্গি সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যাদের সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে লড়াই করার লম্বা ইতিহাস রয়েছে। এইচটিএসকে এর আগে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং আরো কয়েকটি দেশ।
২০১২ সালে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরের বছর আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলো। আল-নুসরা ফ্রন্টকে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সব গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ও মারাত্মক হিসেবে গণ্য করা হতো।
কিন্তু একটা সময় বিপ্লবী ভূমিকার চেয়ে এর জিহাদী মতাদর্শে পরিচালিত হতে থাকে সংগঠনটি। আর এটিই পরে ‘ফ্রি সিরিয়া’ ব্যানারে থাকা বিদ্রোহীদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণ হয়ে উঠে। ২০১৬ সালে সংগঠনটির নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন এবং আল-নুসরা বিলুপ্ত করেন।
পরে তিনি নতুন সংগঠন গড়ে তোলেন, যেটি এক বছর সমমনা আরো কয়েকটি বিদ্রোহী দলে সঙ্গে একীভূত হয়। বিদ্রোহীদের এই জোটই হায়াত তাহরির আল-শাম নামে পরিচিত। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ এইচটিএসকে আল-কায়েদার সহযোগী হিসাবে বিবেচনা করতো।
এইচটিএস কিছুদিনের জন্য ইদলিবে ঘাঁটি গেড়ে নিজেদের শাসন চালু করে। কিন্তু সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় সেই শাসনের আইনি বৈধতা নিয়ে পরে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া ইদলিবে এই বিদ্রোহী জোটের অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
কেই এই আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি?
আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার বাবা সেখানে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তার পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কের অদূরে বসতি স্থাপন করে।
দামেস্কে থাকাকালে জোলানি কী করতেন, তা জানা যায় না। ২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে এসে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন। এই বছরই ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। তখন থেকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আটক থাকেন। গণতন্ত্রের দাবিতে ২০১১ সালে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে বাশার আল-আসাদ সহিংসতার পথ বেছে নেন। এর জেরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় জোলানি ছাড়া পান। এরপর তাঁর নেতৃত্বে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে, বিশেষত ইদলিবে শক্তিশালী হতে থাকে। কয়েক বছর জোলানি আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করেন।
বাগদাদি ছিলেন ইরাকের ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী পরে আইএসআইএল (আইএসআইএস) নাম ধারণ করে। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সিরিয়ায় নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন।
একটা পর্যায়ে আইএসআইএল আল-নুসরা ফ্রন্টকে বেশ ভালোভাবে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে। তখনই আইএসআইএলের জন্ম হয়। জোলানি এ পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তিনি দাবি করতেন, তাঁর গোষ্ঠীর কথা মতোই সিরিয়া শাসিত হবে।
তবে কয়েক বছর পর জোলানির মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আল-কায়েদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ‘বিশ্বব্যাপী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থেকে সরে আসেন। তার গোষ্ঠীটি বহুজাতিক বা আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীর বদলে একটি জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। সিরিয়ার এ অঞ্চল তখনো বিদ্রোহীদের দখলে। জোলানি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আল-নুসরা বিলুপ্ত করেন। গঠন করেন নতুন সংগঠন জাভাত ফাতেহ আল-শাম।
পরের বছরের শুরুর দিকে আলেপ্পো থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা ইদলিবে পালিয়ে আসেন। এ সময়ে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি। এই গোষ্ঠীর লক্ষ্যই ছিল বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসন থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা।
কেন বিদ্রোহীরা আক্রমণ শুরু করেছিলো?
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করায় বেশ কয়েক বছর ধরে ইদলিব একটি যুদ্ধক্ষেত্র চলছিলো। কিন্তু ২০২০ সালে তুরস্ক এবং রাশিয়া ইদলিব পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছিলো। বিক্ষিপ্ত লড়াই সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি কিছু সময়ের জন্য কার্যকরিও হয়েছিলো।
রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের দখল থেকে সেখানকার অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় আসাদ বাহিনী। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ইদলিবের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়। সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র ছিল আলেপ্পো এবং এখানেই বিদ্রোহীরা সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিলো।
কিন্তু যুদ্ধে বিজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদ নিজের দুর্বল সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে পারেননি। তিনি রাশিয়ার বিমান শক্তি এবং স্থলভাগে ইরানের সামরিক সাহায্য, বিশেষ করে হিজবুল্লাহর মতো তেহরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।
ফলে শিগগিরই দুর্বল সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করাটা প্রেসিডেন্টের জন্য বিপদ ডেকে আনে এবং নিয়মিতভাবে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের আক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে থাকে। রাশিয়া ইউক্রেন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বিদ্রোহীরা শক্তি সঞ্চয় করে।
সম্প্রতি লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণে হিজবুল্লাহর শক্তিক্ষয়, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক কমান্ডারদের ওপর ইসরাইলি হামলা যে ইদলিবের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আলেপ্পোতে আকস্মিক হামলা চালাতে উৎসাহ জুগিয়েছে, তাতে খুব একটা সন্দেহ নেই।
গত কয়েক মাসে ইসরাইল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র দলগুলো এবং তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা জোরদার করেছে। ইসরাইলের এসব হামলায় সিরিয়ায় হিজবুল্লাহসহ মিলিশিয়াদের নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আসাদের বাহিনীর দুর্বলতাও প্রকাশ হয়ে পড়ে।
সিরিয়ায় আসাদ যুগের পতন হলো যেভাবে
১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যেই বিস্ময়করভাবেই দৃশ্যপটে সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনী। একে একে চারটি মূল শহর দখলের পর অনেকটা বিনা যুদ্ধেই রাজধানী দামেস্কের দখল নিয়েছে তারা। আক্রমণ শুরুর মাত্র তিন দিন পর ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।
আসাদ সরকার দ্রুত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করার পর বিদ্রোহীরা মাটিতে সামান্যই প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জর্ডান সীমান্তের কাছে স্থানীয় বিদ্রোহীরা দেরা অঞ্চলের দখল নেয়। আসাদবিরোধী বিদ্রোহের জন্ম হয়েছিল এই অঞ্চল থেকেই।
আসাদ তার মিত্রদের সহায়তায় বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার করেছিলেন। রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের হামলা জোরদার করে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা হামার চারপাশে বড় প্রতিরোধ লাইন গড়েও শেষরক্ষা করতে পারেনি। বিদ্রোহীদের আক্রমণে পিছু হটে যায়।
বেশ কয়েকদিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর বৃহস্পতিবার হামা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার পর সরকারি সেনা বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়। এরপরই বিদ্রোহীরা ঘোষণা করে যে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস দখল করা এবং মাত্র এক দিনের লড়াইয়ের পর শনিবার রাতে তা অর্জন করে।
একই সময়ে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত অন্যান্য বিদ্রোহী দলগুলো, যা জর্ডানের সীমান্তবর্তী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেরা এবং সুয়েদা শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে দামেস্কের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়। রোববার সকালে, এইচটিএস-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা অনেকটা বিনা বাধায় দামেস্কে প্রবেশ করে।
দামেস্কে প্রবেশের পরই সেখানের সায়দানায় কুখ্যাত সামরিক কারাগার থেকে হাজার হাজার বন্দীদের ছেড়ে দেয় বিদ্রোহীরা। গৃহযুদ্ধের সময় এই কারাগারে হাজার হাজার বিরোধী সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই ঘণ্টারও কম সময় পরে বিদ্রোহীরা ঘোষণা করে, অত্যাচারী বাশার আল-আসাদ পালিয়ে গেছে।
ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা আসার কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ রাজধানী থেকে অজানা গন্তব্যে উড়ে গেছেন। আসাদের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি পরে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, তিনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত যে কোনও নেতৃত্বের সাথে কাজ করছে প্রস্তুত।