আসাদের পতনে অস্থিতিশীল হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য!

গেলো দুই দশকের বেশি সময় ধরে সিরিয়ার মসনদে জেঁকে বসা স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি কোন পথে এগোবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিরিয়াজুড়ে লাখো জনতার উল্লাস দেখা গেলেও স্বৈরশাসক আসাদের পতনের প্রভাব কেমন হতে যাচ্ছে তা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি উৎকণ্ঠা এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা আসাদের পতন মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটকে গভীর করবে।

মাত্র দুই সপ্তাহ দশেক আগে হায়াত তাহরির আল শাম বা এইচটিএসের নেতৃত্বে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নগরী আলেপ্পো থেকে শুরু হয় যে অভিযান, তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে রাজধানী দামেস্কের পতনের মধ্য দিয়ে। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিজয় এবং বাশার আল আসাদের পতনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ।

বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক মহলের মতে, সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাশারের পতনের ঘটনা প্রবাহে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে যেসব দেশ তাদের মধ্যে অন্যতম ইসরাইল। সিরিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের সীমান্ত দাঁড়িয়ে আছে গোলান মালভূমিতে।

১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে এই গোলান মালভূমির অধিকাংশই সিরিয়ার থেকে দখল করে নিয়েছিল ইহুদি রাষ্ট্রটি। এরপর থেকেই সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অবস্থান করছে গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব।

এছাড়া সিরিয়ায় এই পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আসাদের অধীনে সিরিয়া ছিলো ইরানিদের সাথে হিজবুল্লাহর যোগাযোগের অংশ। হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর জন্য এটা ছিলো মূল পথ।

ইরান সমর্থিত আরেকটি গোষ্ঠী হলো ইয়েমেনের হুথিরা। এসব গোষ্ঠীর সাথে ইরাকের মিলিশিয়া এবং গাজার হামাস…সব মিলিয়েই তেহরানের ভাষায় প্রতিরোধের অক্ষ, যা বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, তুরস্কের সহায়তা ছাড়া সিরিয়ায় এবারের এই আন্দোলনের সফল পরিণতি সম্ভব হতো না। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সিরিয়ার শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে আসাদকে চাপ দিয়েছিলেন।

এছাড়া সিরিয়ার বিশাল এলাকাজুড়ে এক সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট আইএস। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে আবারও এই গোষ্ঠীর মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ।