সিরিয়ায় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অভিযানে ফ্যাসিস্ট শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের ঘটনায় ইরান দুবৃল হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার হোসেইন সালামি। মঙ্গলবার, এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিক্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে পতন হয় বাশার আল-আসাদের। ঘনিষ্ঠমিত্র হিসেবে পরিচিত আসাদের পতনে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার হোসেইন সালামি সিরিয়া ইস্যুতে ইরানের পার্লামেন্টের সদস্যদের বলেছেন, ইরানের শক্তি হ্রাস পায়নি।
২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সামরিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসাদ প্রশাসনকে সমর্থন করে আসছিল ইরান-রাশিয়া। ইসরাইল-আমেরিকার প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে তেহরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বজায় রাখার জন্য তেহরান সিরিয়ায় আইআরজিসি মোতায়েন করেছিল।
সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলের হামলা
এদিকে, আসাদের পতনের পরপরই রাজধানী দামেস্কসহ সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তেল আবিবের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই নেয়া হচ্ছে এমন পদক্ষেপ।
ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রে বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরাইলি বাহিনী নিজেদের ইতিহাসে সিরিয়ায় সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে।
গত দুইদিনে রাজধানী দামেস্কসহ সিরিয়ায় ২৫০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। সোমবার সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় লাতাকিয়া বন্দরের কাছে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেল আবিব। রাজধানী দামেস্কেও শোনা যায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ।
আলজাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজধানীর কাছে একটি গ্রামে ৪টি বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া, দামেস্কের কাছে অবস্থিত ৩টি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায় নেতানিয়াহু প্রশাসন। এতে ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাব করেছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে তেল আবিব। তবে, ইসরাইলের এমন হামলা এবং গোলান মালভূমির সিরিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকা দখলে নেয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, সৌদি আরব ও ইরাক।