বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। গত দুই দিনে সিরিয়ায় ৪৮০টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
একই দিন, আসাদের পতনে ইরানের ক্ষমতা কমেনি বলে মন্তব্য করেছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেইন সালামি। এদিকে সিরিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য দেশটির বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
সিরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত ৪৮ ঘণ্টায় সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৪৮০ বার আঘাত হেনেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল অস্ত্র ভাণ্ডার, নৌবাহিনী স্থাপনা, বিমানবন্দর, এবং ক্ষেপণাস্ত্র।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ আল-বাইদা এবং লাতাকিয়া বন্দরে থাকা ১৫টি নৌযান ধ্বংস করেছে। এছাড়া দামেস্ক, হোমস, তারতুস এবং পালমিরার মতো শহরগুলোতে অস্ত্র উৎপাদন কারখানা, গোলাবারুদের গুদাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ইসরাইলি ট্যাংক সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে পৌঁছেছে এমন খবরকে গুজব বলে দাবি করেছে আইডিএফ। যদিও তাদের হামলার ফলে শহরটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই অভিযানের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কৌশলগত সক্ষমতাগুলো ধ্বংস করা।
বাশার আল আসাদের পতনকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে উল্লেখ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে ইসরাইল।
তিনি বলেন, আমাদের কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। ইসরাইল এখন এমন এক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা একাধিক ফ্রন্টে বিজয় অর্জন করছে। যারা আমাদের সহযোগিতা করে, তারা লাভবান হয়। আর যারা আক্রমণ করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, আসাদের পতনের পর ইরান তাদের সক্ষমতা হারায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেইন সালামি। পার্লামেন্টের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ইরান দুর্বল হয়নি। ইরানের ক্ষমতাও কমেনি।
সিরিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সিরিয়ার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন থাকা উচিত, এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস যদি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া নেতৃত্ব দখল করতে চায় তবে তা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করবে না।