হিন্দু নিপীড়নের কথিত অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির চাণক্যপুরীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভ করেছে অন্তত তিন হাজার মানুষ। মঙ্গলবার ‘সিভিল সোসাইটি অব দিল্লি’র ব্যানারে এতে অংশ নেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ- আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরঙ্গ দলের কর্মীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লুটেন্স দিল্লির তিন মূর্তি ভবনের সামনে জড়ো হন মিছিলকারীরা। বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে দিল্লির তিন মূর্তি মার্গ গোলচত্বরে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। হাইকমিশন থেকে বেশ কিছু দূরে ওই এলাকায় পুলিশ লোহার ব্যারিকেড বসায়।
পরে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ পাহারায় হাইকমিশনে গিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আরও বলা হয়, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে, বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর। স্মারকলিপির মাধ্যমে দিল্লির সিভিল সোসাইটি বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছে। এতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার এবং তাদের বিরুদ্ধে চলমান হিংসা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে এদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে চানক্যপুরীতে হাইকমিশন অফিসের কাছে আসতে থাকে খণ্ড খণ্ড মিছিল। তাদের সবার হাতেই ছিল প্রতিবাদী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড। সেখানে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিরোধী স্লোগান দেন তারা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন ছিল সেখানে। অন্তত দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর, শেষ হয় শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ মিছিল।
এতে অংশ নিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী সাধ্বী ঋতম্বরা, ইসকনের কেশব মুরারি প্রভু, ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল এশিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক রমাকান্ত দ্বিবেদী, সাবেক দিল্লি পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব, বাংলাদেশের সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা রাহুল ভান্তে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রিয়দর্শিনী, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি এবং বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী।
বক্তারা বাংলাদেশে নিপীড়নের শিকার হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।