নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে কানাডা। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রধান নির্বাচিত কে এই মার্ক কার্নি? কানাডার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোন ধরনের নীতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা করছেন? অর্থনীতিবিদ কার্নি ছিলেন কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান। তাই আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তুলনামূলক শক্তিশালী কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে লিবারেলদের জয় ছিনিয়ে কঠিল লাড়ইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মার্ক কার্নির জন্ম। বেড়ে ওঠা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আলবার্টা প্রদেশে। তিনি নিজেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘একজন বহিরাগত’ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি কানাডাকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার সময়ে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
মার্কিন শুল্কো আরোপে ফলে, সামনের দিনগুলোয় অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা জাতীয়তাবাদের অনুভূতি এবং অটোয়াতে স্থিতিশীল নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
৫৯ বছর বয়সী মার্ক কার্নি ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সময়ে ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর হিসেবে কাজ শুরু করেন। কানাডাকে আরও গুরুতর মন্দা থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক উদ্যোগ নেয়ার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।
আবার ২০১৩ থেকে ২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে দিয়েছেন। সেসময় ধুকতে থাকা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। পড়াশোনা করেছেন ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকসে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।
সম্প্রতি তিনি ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যানেরও দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাও ছিলেন কার্নি। তাই, সংকটের সময় কার্নি নিজের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘ট্রাম্প ঝড়’ মোকাবিলা করতে পারবেন, এমনটাই মনে করছে তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকেরা।
কানাডার হবু প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আমেরিকানদের কোনও ভুল করা উচিত না। হকির মতো, বাণিজ্যের খেলাতেও কানাডা জিতবে। কারণ ট্রাম্প কানাডার শ্রমিক, তাদের পরিবার ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে আক্রমণ করছেন। আমরা তাকে সফল হতে দেব না।
সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানা, আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কানাডার ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে বৈচিত্র্য আনা, অভিবাসনে সাময়িক রাশ টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্ক কার্নি। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর স্বল্প অভিজ্ঞতা। এরপরও লিবারেল পার্টির বছরের পর বছর ধরে সমর্থন কমে আসার লাগাম টেনে ধরার চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে কানাডার হবু প্রধানমন্ত্রীকে।