কাবুল দখলের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তালেবানদের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে বলেছিল- 'তালেবানরা গণমাধ্যমের ভূমিকাকে সম্মান করে। বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে'।
তবে ক্ষমতা দখলের কয়েকদিনের ভেতরেই বেশ উল্টো রেশই দেখা যাচ্ছে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহর প্রতিশ্রুতির।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক সাংবাদিককে খুঁজে না পেয়ে তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে হত্যা করেছে তালেবান। তবে সাংবাদিকদের উপর তালেবানি হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কাবুল বিজয়ের আভাস পাওয়া মাত্রই খুঁজে খুঁজে গণমাধ্যম কর্মীদের হত্যায় মত্ত হয়ে উঠেছে তালেবান সেনারা।
ডয়েচ ভেলের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিকদের শনাক্ত করছে তালেবান এবং এখন পর্যন্ত একাধিক সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী কাবুল দখল নেওয়ায় পর তালেবান ডয়চে ভেলের তিনজন সাংবাদিককে বেশ কয়েকদিন ধরে খুঁজছে এবং তাদের সন্ধানে বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সম্প্রতি সেই তিন সাংবাদিকের একজনের বাড়িতে ঢুকে তাকে না পেয়ে তার পরিবারের এক সদস্যকে হত্যা করে তালেবান। আরও একজন জখম করে গুরুতরভাবে।
এদিকে, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক নেমাতুল্লাহ হেমাত তালেবানদের হাতে অপহৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও পুলিৎজার বিজয়ী ফটো সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিক ও রেডিও ঘাগের তুফান ওমর পেশাদার দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছে তালেবানদের গুলিতে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত জার্মান পত্রিকা Die Zeit এর আফগান প্রতিনিধি আহদুল্লাহ হামদর্দসহ তালেবানদের হাতে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের নৃশংস মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: আফগান পুলিশ প্রধানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান
এ বিষয়ে জার্মান সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডয়চে ভেলের পরিচালক পিটার লিমবুর্গ বলেছেন, আফগানিস্তানে আমাদের এক এডিটরের পরিবারের সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং এ থেকেই বোঝা যায় সেখানে ডিডব্লিউর কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কী ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছেন। তালেবানরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কী করছে তা এটা থেকেই স্পষ্ট। আমাদের হাতে সময় নেই এবং এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
একাত্তর/এসএ