মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে। এক্ষেত্রে ইরানের সম্ভাব্য চার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ইরান। তবে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। ইরানের যে কোন প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বর্তমানে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সৈন্য, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে ইরানের পাল্টা চালের ওপর।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরানি হামলার আশংকায় মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে মোতায়েনন থাকা ৪০ হাজার মার্কিন সেনাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের যে সম্ভাব্য হুমকিগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রথেমেই রযেছে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা। ইরানের সবচেয়ে প্রচলিত প্রতিক্রিয়া হতে পারে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে হামলা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি ঘাঁটি রয়েছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসকে প্রধান লক্ষ্য বানাতে পারে ইরান। এই আশংকায় দূতাবাসটি ইতোমধ্যে প্রায় খালি করে ফেলা হয়েছে।
ইরান যদি মনে করে, তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তাহলে সৌদি আরব, আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হতে পারে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। ইরান সহজেই এই প্রণালীকে মাইন পুঁতে বন্ধ করে দিতে পারে এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে হামলা চালানো। হিজবুল্লাহ ও হামাসকে দিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা আর হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো।
তবে প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধ জড়ানোর আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া জানাবে। কারণ পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হলে সেটি হবে তেহরান ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আত্মঘাতী। তৈরি করতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি।