ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তছনছ হয়ে গেছে ইসরাইলের একাংশ। যেকোনো মুহূর্তে আবারও করে শুরু হতে পারে যুদ্ধ। এমন আশঙ্কায় প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে অনেক ইসরাইলিই চলে গেছে পাশের দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাসে। তাদের অনেকেই জমি কিনে সেখানে বাস করতে চাচ্ছে। যা দেখে রীতিমতো বিস্মিত-আতঙ্কিত সাইপ্রাসের সাধারণ মানুষ। আরেক ‘ফিলিস্তিন’ হবার শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
ইরান-ইসরাইল সংঘাতের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় দিন কাটছে ইসরাইলিদের। তাই প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়েছেন অনেকেই।
অনেকেই আকাশপথে পাড়ি জমিয়েছে ৪২১ কিলোমিটার দূরে দেশ সাইপ্রাসে। ১২ হাজারের বেশি ইসরাইলি আশ্রয় নিয়েছে সেখানে। এদিকে যুদ্ধবিরতির পর কেউ কেউ নিজের দেশে ফিরতে শুরু করলেও সাইপ্রাসের আবাসন খাতে বেড়েছে ইসরাইলিদের বিনিয়োগ। তারা কিনছে জমি আর গড়ছে বসতঘর।
এমন প্রেক্ষাপটে সাইপ্রাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। এমনকি সেখানকার প্রধান রাজনৈতিক দল আকেল পার্টির মহাসচিব দেশটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আকেল পার্টির মহাসচিব স্টেফানোস স্টেফানু বলেন, সাইপ্রাস একটি ছোট দেশ, আর এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। এখন যদি আমরা সতর্ক না হই, ভবিষ্যতে হয়তো নিজেদের জমিও নিজের হাতে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, নিজে দেশেই হয়তো শরণার্থীদের মতো জীবন কাটাতে হতে পারে আমাদের।
ইইউভুক্ত দেশ হিসেবে সাইপ্রাসে ইউরোপীয় নাগরিকদের জমি কেনায় তেমন বাধা না থাকলেও, বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। তারপরওইসরাইলিদের জমি কেনার হার বেড়ে যাওয়ায়, আকেল পার্টি 'গোল্ডেন ভিসা' কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে জমি বিক্রির প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আনতে পার্লামেন্টে দুটি বিল উত্থাপন করেছে।
আকেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরাইলি নাগরিকরা মূলত সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত এলাকায় জমি কিনছেন, যেগুলোর আশপাশেই রয়েছে সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর স্থাপনা।