অভিনব প্রতারণা, জাল পরিচয়ে পুলিশে দুই বছর চাকরি

ছদ্মবেশ আর ভুয়া পরিচয়ে এক ভারতীয় নারী দুই বছর ধরে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরি করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার এমন কাণ্ডে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে রাজস্থান রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। কিভাবে সম্ভব হলো এমন ঘটনা, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা।

রাজস্থান পুলিশ একাডেমি খুবই সুরক্ষিত একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। সেখানকার কঠিন নিরাপত্তার ব্যবস্থাকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোনা বুগালিয়া ওরফে মলি নামের এক নারী প্রায় দু’বছর ধরে বহাল তবিয়তে চাকরি করে গেছেন। তাও আবার পুলিশের পোশাক পরে প্রশিক্ষণ ক্লাসে অংশও নিয়েছেন।

রাজ্য পুলিশের অনেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুললেও মলির পরিচয় নিয়ে কারও কোন সন্দেহ তৈরি হয়নি। তবে ২০২৩ সালে যখন জয়পুরে তার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়, তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। পরে এই সপ্তাহের শুরুতে রাজস্থানের সিকার জেলা থেকে মলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

indian-police1

পুলিশের মতে, মলি সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েই রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে প্রবেশ করেছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর, মলির ভাড়া করা ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৭ লক্ষ রুপি, তিনটি পুলিশ ইউনিফর্ম এবং রাজস্থান পুলিশ একাডেমির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে।

তার ভুয়া পরিচয়পত্র ও কিছু জাল নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মলি রাজস্থানের নাগৌর জেলার নিম্বা কে বাস গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা একজন ট্রাক চালক। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি কখনো রাজস্থান সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নি।

২০২১ সালে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর সে ‘মলি দেবী’ নামে ভুয়া নথি তৈরি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা প্রচার করে যে, তাকে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পরে, তিনি সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের জন্য তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেন।

indian-police2

সেই গ্রুপে মলি রাজস্থান পুলিশ একাডেমির আগের ব্যাচের এক প্রার্থীর ছদ্মবেশ হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন; ওই ব্যাচটি স্পোর্টস কোটায় ভর্তি হয়েছিল। প্রায় দুই বছর ধরে, মলি নিয়মিতভাবে প্যারেড গ্রাউন্ডে পূর্ণ ইউনিফর্ম পরে হাজির হয়েছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অনুষ্ঠিত মহড়াতেও অংশ নিয়েছেন।

উচুঁ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলতেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপ্রেরণামূলক কন্টেন্ট এবং রিল পোস্ট করতেন, এমনকি নিজেকে একজন কর্মরত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এমন এক ঘটনায়, তিনি পুলিশি পোশাকে একটি জনমঞ্চ থেকে ক্যারিয়ার সচেতনতামূলক বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

একাডেমির কিছু প্রশিক্ষণার্থী মলির সাব-ইন্সপেক্টর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ শুরু করলে তার প্রতারণার রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। তদন্ত শুরু হবার পর মলি জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বীকার করেন যে তিনি জাল পরিচয়ে সেখানে আছেন।

মলি আরও স্বীকার করেন, তিনি শুধু তার পরিবারকেই চম ক দেখাতে চাননি, সেই সঙ্গে এক সাব- ইন্সপেক্টর পদের প্রভাব ও ক্ষমতাকেও কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।