পাকিস্তানে একটি পোষা সিংহের আক্রমণে এক নারী ও তার তিন সন্তান আহতের ভিডিও ভাইরাল হবার পর, প্রাণিটির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। মালিকের বাসা থেকে পালিয়ে যাবার পর সিংহটি ওই নারী ও তার তিন শিশু সন্তানকে আক্রমণ করে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। সিংহের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জোরালো হতে শুরু করে।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় লাহোর শহরের সেই নাটকীয় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কীভাবে ভীত মানুষরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে থাকা অবস্থায় একটি ছোট্ট সিংহ একটি কংক্রিটের দেয়াল টপকে এক নারীকে তাড়া করে এবং তিনি ভীত হয়ে এক পর্যায়ে রাস্তার উপর পড়েও যান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নারী এবং তার পাঁচ ও সাত বছর বয়সী সন্তানদের হাতে এবং মুখে আঘাত লেগেছে, তবে তারা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। লাইসেন্স ছাড়াই একটি বন্য প্রাণি পালন এবং অবহেলার কারণে মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠুকেছে। সিংহটিকে আটক করে একটি বন্যপ্রাণি পার্কে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানে পোষা প্রাণি হিসেবে বড় বিড়াল মর্যাদার প্রতীক। এজন্য সিংহ, চিতা, বাঘ, পুমা ও জাগুয়ারকে নিবন্ধন করে অনেকে। তবে প্রাণি প্রতি এককালীন ৫০ হাজার রুপি ফি প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এই প্রাণিকে শহরের সীমানার বাইরে রাখার বিধান রয়েছে।
পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত লাহোর পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আগত তিন শিশুর বাবা দাবি করেছেন, বুধবার সিংহটি যখন তার স্ত্রী ও সন্তানের ওপর আক্রমণ চালায়, তখন মালিকরা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, তারা সিংহটিকে আটকানোর জন্য কিছুই করেননি।
ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী নিজেকে তুলে নিয়ে আশপাশের মানুষদের সাহায্য চাইতে দৌড়ে যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে দেখা গেছে।
ঘটনার কয়েকদিন পর, পাঞ্জাবের কর্তৃপক্ষ অবৈধ বন্যপ্রাণী দখলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। তারা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ১৩টি সিংহ উদ্ধার করেছে।
জানুয়ারাতে, একজন পাকিস্তানি ইউটিউবারকে অবৈধভাবে সিংহ শাবক রাখার জন্য শাস্তি হিসেবে পশু কল্যাণমূলক ভিডিও তৈরি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। রজব বাট, যার ৫৬ লক্ষ গ্রাহক রয়েছে, তাকে বিয়ের উপহার হিসেবে শাবকটি দেওয়া হয়েছিলো।