২০২৩ সালে এক মধ্যাহ্নভোজে তিন আত্মীয়কে হত্যা এবং আরেকজনকে হত্যার চেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চাঞ্চল্যকর ‘মাশরুম’ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এরিন প্যাটারসন। ৫০ বছরের এই নারীর রান্না করা দুপুরের খাবার (মধ্যাহ্নভোজের) পর তিনজন মারা যান এবং একজন গুরুতর অসুস্থ হন- যার জেরে এই মামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
৫০ বছর বয়সী এই নারী ভিক্টোরিয়া প্রদেশের ওয়েলিংটনের লিওঙ্গাথায় তার বাড়িতে ছয় টুকরো গরুর মাংস দিয়ে ‘বিফ ওয়েলিংটন’ নামের একটি বিশেষ পদ রান্না করে পরিবেশন করেছিলেন। পরে দেখা যায়, তাতে ডেথ ক্যাপ মাশরুম ছিলো। এই ধরনের মাশরুম খেলে বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
বিষাক্ত মাশরুশ খাওয়ার পর এরিনের শ্বশুর ডন ও শাশুড়ি গেইল প্যাটারসন এবং গেইলের বোন হিদার উইলকিনসন কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যান। তাদের সবার পাকস্থলিতেই ওই মাশরুশ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে, এরিনের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
সরকারের কৌসুলিরা যুক্তিতর্কের সময় প্রমাণ করেন, এরিন প্যাটারসন জেনেশুনে বাড়িতে রান্না করা দুপুরের খাবারে বিষাক্ত মাশরুম মিশিয়েছিলেন, পুলিশের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন এবং প্রমাণ নষ্ট করেছিলেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটাননি এরিন।
রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, এরিন ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রমাণ লোপাট করেন। তিনি খাবারের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে তথ্য মুছে ফেলেন। বিচার চলাকালীন দাবি করা হয়, তিনি প্রথমে পুলিশকে ভুল তথ্য দেন এবং পরবর্তীতে নিজের বক্তব্য পাল্টান।
অপরদিকে, এরিনের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, এটি একটি দুর্ঘটনা। এরিন সম্ভবত না বুঝেই বিষাক্ত মাশরুম রান্নায় ব্যবহার করেছেন এবং মিথ্যা বলেছিলেন শুধুমাত্র আতঙ্কিত হয়ে। প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। তারা বলেন, এই ঘটনা কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়।
মেলবোর্নের আদালতে বিচারপতি ক্রিস্টোফার বেল এরিনের রায় ঘোষণা করেন। ১২ সদস্যবিশিষ্ট জুরি দীর্ঘ বিচার শেষে সর্বসম্মতভাবে এরিনকে দোষী সাব্যস্ত করে।
বিচারক জুরিদের প্রশংসা করে বলেন, আপনারা ছিলেন অসাধারণ জুরি। পাশাপাশি তাদের ১৫ বছরের জন্য জুরি পরিষেবার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রায়ের সময় এরিন প্যাটারসন সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন এবং শান্তভাবে জুরিদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, যদিও এই রায়ের ফলে তার বাকি জীবন কারাগারেই কাটতে পারে। তবে তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ২৮ দিন সময় পারেন।
টেক্সাসে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২, এখনও নিখোঁজ অর্ধশত
মধ্যরাতে নারী ফুটবলারদের জমকালো সংবর্ধনা