গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সূচনা করেছেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে গাজায় ইসরাইলের হামলাকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানান তিনি।
ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে লুলা ডি সিলভা বলেন, যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা বা অনাহারকে ব্যবহার করাও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি জোরালো যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক জোট ব্রিকস।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদের পাশাপাশি সম্প্রতি জোটে যুক্ত হওয়া নতুন সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে বৈশ্বিক পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা ‘ভবিষ্যৎ না ভেবে দেওয়া’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা আমদানি শুল্ক আরোপ এবং সম্প্রতি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। রোববার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়।
প্রায় ২০ বছর আগে গঠিত ব্রিকস এখন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে চীনের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে ইরান, সৌদি আরবসহ নতুন নতুন দেশ যুক্ত হওয়ায় গাজা যুদ্ধ বা মার্কিন আধিপত্য নিয়ে জোটের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্রিকস দেশগুলোর নেতাদের ১৭তম বৈঠকের প্রথম পর্যায়ের অধিবেশনে ‘শান্তি ও নিরাপত্তা, বৈশ্বিক প্রশাসন সংস্কার’ নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। তিনি বলেছেন, ব্রিকসকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রথম জোট হওয়া উচিত, যেটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্রে বৈশ্বিক সংস্কারের অগ্রগামী শক্তিতে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও শৃঙ্খলার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার মর্যাদা ও কার্যকরিতা দুর্বল হয়ে গেছে। অসঙ্গতি ও মতভেদ গুরুতর হওয়ার পরিস্থিতিতে সমান ও সমতার মনোভাবে পরামর্শ করা জরুরি।
ব্রিকস দেশগুলোর নেতারা বলেছেন, ব্রিকস সহযোগিতার ব্যবস্থাপনা উন্নত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব শক্তিও অনেক বেড়েছে। চলমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একতরফাবাদ আর সংরক্ষণবাদ ব্যাপক উত্থান ঘটেছে, তাই ব্রিকসের উচিত এক হয়ে জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখা, বহুপক্ষবাদ সংরক্ষণ করে অভিন্ন উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রশাসন, বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির বাস্তবায়নে আরো বেশি অবদান রাখা।