ইরানের প্রেসিডেন্টকেও হত্যার চেষ্টা করেছিলো ইসরাইল

গেলো জুন মাসে ১২ দিনের সামরিক সংঘাত চলার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো ইসরাইল। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এম দাবি করেছেন। রোববার বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার এমনটাই দাবি করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

কার্লসনের এক প্রশ্নের উত্তরে পেজেশকিয়ান বলেন, ইসরাইল তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং চেষ্টাও করেছিল; কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার জীবনের ওপর যে হামলা হয়েছিলো, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ছিলো না। এটি ছিলো ইসরাইল। দেশটি গুপ্তহত্যার কৌশল নিয়ে থাকে।

পেজেশকিয়ান আরও জানান, তিনি একটি বৈঠকে ছিলেন, সেই জায়গা লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করেছিলো ইসরাইলের বিমানগুলো। অল্পের জন্য বৈঠকের স্থলটি বোমা হামলা থেকে রক্ষা পায়। ইরানের ভেতরে থাকা ইসরাইলি গুপ্তচরদের কারণে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য তেল আবিবের কাছে থাকে।

পেজেশকিয়ান বলেন, তারা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং চেষ্টাও করেছিল; কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। সংঘাত শুরুর কয়েক দিন পর তেহরানে আমি একটি জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম এবং যে এলাকায় আমি ছিলাম। হঠাৎ পুরো এলাকাজুড়ে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। পরে খোঁজ গেছে ইসরাইল এ হামলা চালিয়েছে।

গত ১৩ জুন ইরানে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হন। ১২ দিনের ইরান-ইসরাইল সংঘাতে ইরানে ৯০০ জনের বেশি নিহত হন বলে দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে। এর জবাবে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হন এবং বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসরাইল হামলা চালানোর আগে নিজেদের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চলছিল তেহরানের। সংঘাতের সময় তা বন্ধ হয়ে যায় এবং এখনও তা শুরু হয়নি।

কার্লসনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, ওয়াশিংটন যদি আগ্রহী হয় তাহলে আবার সংলাপ শুরু করতে আপত্তি নেই তেহরানের। তবে এক্ষেত্রে যে তেহরান আস্থার সংকটে ভুগছে, সেটিও উল্লেখ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।