প্রায় ২০ বছর কোমায় থাকার পর সৌদি আরবের প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল মারা গেছেন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন তার বাবা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। তিনি জানিয়েছেন, রোববার বাদ আসর রাজধানী রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে আল-ওয়ালিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন প্রিন্স আল-ওয়ালিদ। দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তখন তার বয়স ছিলো ১৮। তিনি লন্ডনে সামরিক ক্যাডেট হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন। আল-ওয়ালিদ দুর্ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে কোমায় ছিলেন।
এ কারণে ‘দ্য স্লিপিং প্রিন্স’ বা ‘ঘুমন্ত রাজকুমার’ নামেও পরিচিত ছিলেন সৌদি রাজপরিবারের এই সদস্য। পাঁচ বছর আগে আল-ওয়ালিদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কোমায় থাকা অবস্থায় তিনি আঙুল নাড়াচ্ছেন। এ থেকে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছিলো।
কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টার পরও তার শারীরিক অবস্থার বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি। শনিবার ঘুমের মধ্যেই চিরঘুমে তলিয়ে যান তিনি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৮ বছর। সৌদি রাজ পরিবারের সদস্য খালিদ বিন তালাল পুত্রের মৃত্যুর খবর দেন সংবাদমাধ্যমে। পুত্রশোকে দীর্ঘ বার্তা লিখেছেন তিনি।
চিকিৎসকেরা ওয়ালিদকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সব আশা ত্যাগ করলেও, তার বাবা খালিদের আশা ছিলো ছেলে এক দিন ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে। বছর দুই আগেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন যুবরাজকে ‘জাগানো’ আর সম্ভব নয়। তবে অত্যাশ্চর্য কিছুর আশায় ছিলেন পিতা।
তিনি পুত্রকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ থেকে বার করতে চাননি। এ বছরের জুনে ঈদ-উল-আজহায় অন্য পুত্রদের নিয়ে ‘ঘুমন্ত রাজপুত্র’কে দেখতে গিয়েছিলেন খালিদ। পুত্রের আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু শেষমেশ না-ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ওয়ালিদ।