গাজায় মানবসৃষ্ট 'গণদুর্ভিক্ষ' দেখা দিয়েছে: ডব্লিউএইচও প্রধান

গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অবরোধের কারণে সেখানে মানবসৃষ্ট গণদুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস। অন্যদিকে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় কমপক্ষে ৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে । 

টনকে টন খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ গাজার ঠিক বাইরে অপ্রবেশযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১১৫ জন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন। যার মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অবরোধের কারণে সেখানে মানবসৃষ্ট গণদুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। আর এতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ৮০ দিন কোনো খাদ্য সরবরাহই করতে পারেনি এবং এখন যে সরবরাহ শুরু হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট নয়।

গাজায় চরম খাদ্যসংকট নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে শতাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাও। পরিস্থিতি চরম সংকটজনক বলে জানায় সংস্থাগুলো।  

অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, গত মার্চে ইসরাইল গাজায় সব ধরনের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। মে মাসে অবরোধ আংশিকভাবে তুলে নেয়া হলেও, সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যদিও ইসরাইলের দাবি, তারা গাজায় যথেষ্ট ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে। আর হামাস মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী বলে দাবি করে ইসরাইল।