ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অঞ্চলটির প্রায় ২১ লাখ ফিলিস্তিনি দুর্ভিক্ষের ‘গুরুতর ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি করেছেন, গাজায় কেউ অনাহারে নেই। তবে, তার এই দাবি অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সময় যত এগোচ্ছে গাজায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি ততটাই খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন ব্যাপক হারে বাড়ছে গাজায় অনাহার, অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগ থেকে ক্ষুধাজনিত কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ অংশ দুর্ভিক্ষের সীমায় পৌঁছেছে এবং এর মধ্যে গাজা সিটিতে মারাত্মক অপুষ্টি দেখা দিয়েছে।
গাজার এক বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরেই সারা বিশ্বের কাছে মৃত। তারা আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি। ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার কোথায়? ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোথায়? গাজার অনেক মানুষ এরই মধ্যে খাবারের অভাবে মারা গেছে। আর প্রতিনিয়ত হামলাতে তো মারা যাচ্ছেই।
তিনি আরও বলেন, গেলো মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আমরা চরম দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। আমাদের শিশুরা এক মুঠোও খাবার খুঁজে পাচ্ছে না। আটার জন্য গাজা জুড়ে হাহাকার চলছে। গাজার যেখানেই আপনি তাকাবেন শুধু মৃত্যুই দেখতে পাবেন।
এরইমধ্যে জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন-আইপিসি বলেছে, গাজার প্রায় ২১ লাখ ফিলিস্তিনি দুর্ভিক্ষের ‘গুরুতর ঝুঁকিতে’ এবং তারা ‘চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার’ মুখে রয়েছে।
সম্প্রতি গাজায় খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল উপত্যকাটিতে পুরোপুরি অবরোধ আরোপ করে, যা মে মাসে আংশিক তুলে নেয়া হলেও এখনও সীমিত পরিমাণে ত্রাণ ঢুকছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সতর্কতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সাহায্য ঢুকতে পারছে না।
এর আগে, গাজায় কেউ অনাহারে নেই বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, গাজায় অনাহারে রাখার কোনো নীতি তাদের নেই এবং গাজায় কেউ না খেয়েও নেই। যুদ্ধ চলার পুরো সময় ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নেতানিয়াহুর এই দাবির সাথে একমত নন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজার অভুক্ত শিশুদের প্রকাশিত ছবির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওই শিশুদের খুবই ক্ষুধার্ত দেখাচ্ছে।’
তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দিতে ইসরাইল এ সপ্তাহান্তে সেখানে মানবিক বিরতি ঘোষণা করেছে। আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা ও অন্যান্য উদ্যোগের ঘোষণাও এসেছে।