ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইসরাইল যদি গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাজ্য প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এমন ঘোষণা দেন তিনি।
রয়টার্সের জানায়, স্টারমার বলেছেন, ইসরাইলকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো- গাজায় আরও ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি, দ্বিতীয়ত পশ্চিম তীরে ভূমি দখলের পরিকল্পনা বাতিল এবং তৃতীয়ত ইসরাইল ও প্যালেস্টাইনের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দুই-রাষ্ট্র সমাধানে প্রতিশ্রুতি।
গত সপ্তাহে ফ্রান্স প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য হতে পারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিতীয় পশ্চিমা দেশ, যারা এই পথে হাঁটবে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো তথ্য বলছে, গাজায় ২২ লাখ মানুষের মধ্যে অনেকে অনাহারের মুখে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
স্টারমার বলেন, ক্ষুধার্ত শিশু, দাঁড়াতে অক্ষম শিশুদের ছবি আমাদের মনে চিরস্থায়ী দাগ কাটছে। এই দুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে স্টারমার তার মন্ত্রিসভাকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে ফিরিয়ে এনে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে ইসরাইল এবং অন্য পক্ষ কতদূর এই শর্ত পূরণ করেছে, তা মূল্যায়ন করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে কারও ভেটো ক্ষমতা থাকবে না।
স্টারমারের সরকার ইতিমধ্যে ইসরাইরে প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরোধিতা বন্ধ করেছে এবং ইসরাইলে কিছু অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করেছে। গত মাসে দুই ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোত্রিচের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন বিরোধী নেতা হিসেবে স্টারমার ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করলেও গত এক বছরে তার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির জন্য চাপ দিচ্ছেন।
এদিকে, ফ্রান্সের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল এবং তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা এটিকে হামাসের জন্য পুরস্কার হিসেবে দেখছে।
